ডিলারশিপ না পেয়ে যুবদলের পদ ছাড়লেন সাদ্দাম, নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পরও প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সারের ডিলারশিপ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন সাদ্দাম। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া হতাশা।

সাদ্দামের ভাষ্য, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবা দড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং প্রায় চার দশক ধরে সার ব্যবসা করছেন। কিন্তু ২০০৯ সালে ডিলার নিয়োগের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর। এরপর অন্য ডিলারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন তাঁরা।

সম্প্রতি নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সাদ্দাম ও তাঁর পরিবার আবেদন করেন। তবে শেষ পর্যন্ত দড়গ্রাম ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান মো. রুহুল আমীন। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হন সাদ্দাম।

নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে সাদ্দাম দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তাঁরা নানা নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে নয়টি মামলা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাবা-ছেলে একসঙ্গে কারাবরণ করেছেন বলেও জানান সাদ্দাম। এত কিছুর পরও প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়ায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তার বক্তব্য।

তবে ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। নিয়োগের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই; পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত ৬ অক্টোবর সারাদেশের মত মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নে মো. রুহুল আমীনের নাম রয়েছে।

সাদ্দামের পদত্যাগের ঘোষণা কেবল একটি ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভ, নাকি এর পেছনে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিজ্ঞতাও কাজ করেছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে, এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। 

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ৩ জন করে নাম উপজেলা সার বীজ কমিটি জেলা কমিটি বরাবর পাঠিয়েছিলাম। জেলা কমিটি আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলা। পরে মন্ত্রণালয়ে ৬ অক্টোবর তালিকা প্রকাশ করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত