রহস্যজনক কঙ্কাল হ্রদ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ এএম

উত্তরাখণ্ডে হিমালয় পর্বতের প্রায় ১৬,৫০০ ফুট উচ্চতায় ‘রূপকুণ্ড’ হ্রদটি বিশ্বজুড়ে রহস্যজনক ‘কঙ্কাল হ্রদ’ নামে পরিচিত। ১৯৪২ সালে হরি কিষণ মাধওয়াল নামে এক ব্রিটিশ/ভারতীয় বনরক্ষী, তুষারাবৃত সেই অঞ্চলে টহল দেওয়ার সময় হ্রদের পানি ও আশপাশে শত শত মানুষের কঙ্কাল ও মাথার খুলি দেখতে পান। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। প্রথমে জাপানি সৈন্যদের মৃতদেহ ভেবে ব্রিটিশ প্রশাসন আতঙ্কিত হলেও, পরে জানা যায় কঙ্কালগুলো অনেক পুরনো। সব তুষার গলে যাওয়ার পর,  প্রায় শখানেক কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয় হ্রদের তলদেশে। সব মানুষের। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রূপকুণ্ডের নাম হয়ে যায়, ‘স্কেলিটন লেক’ বা ‘কঙ্কাল হ্রদ’।  স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, প্রায় ৮৭০ বছর আগে কানৌজের রাজা জসধবল তার গর্ভবতী স্ত্রী রানী বলম্পা, পরিচারক এবং একটি নৃত্যশিল্পীর দল নিয়ে নন্দা দেবী মন্দিরে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। পথিমধ্যে ভয়ংকর শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে দলের সবাই মারা যায়। পরবর্তী সময়ে ভারত, আমেরিকা ও জার্মানির বিজ্ঞানীরা কঙ্কালগুলো নিয়ে গবেষণা চালান। চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে সেখানে। জানা যায়, বিভিন্ন মৃত ব্যক্তির সময়ের মধ্যে প্রায় ১,০০০ বছরের ব্যবধান রয়েছে। প্রত্যেকে জিনগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ। কেউ ভারতীয় বংশোদ্ভূত, কেউ ভূমধ্যসাগরীয় বা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের মানুষ। কিছু খুলিতে পেছনে ভারী কোনো গোল বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যার সঙ্গে প্রচ- শিলাবৃষ্টি বা বরফের গোলকের আঘাতের মিল রয়েছে। কিন্তু পুরো রহস্যের সমাধান হয়নি। রূপকুণ্ড নিয়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব চলছে এখনো।   

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত