শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত ‘সোলার ইকোসিস্টেম’ উন্মোচন করেছে দেশের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। এ ব্যবস্থার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সৌরশক্তির সাহায্যে ফ্রিজ, এসি, টিভিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য পরিচালনার প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব। ওয়ালটন সৌরশক্তির মাধ্যমে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা করেন।
মন্ত্রী বলেন, সোলারের মাধ্যমে আগামী এক-দুই বছরে দেশে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এর ফলে কম খরচে জনগণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে জ¦ালানি আমদানি কমবে। ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, ‘ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ¦ালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতেও এ উদ্যোগ সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, তাহমিনা আফরোজ তান্না প্রমুখ।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজস্ব কারখানায় ছাদভিত্তিক (রুফটপ) ও ভাসমান (ফ্লোটিং) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ পরিমাণ বিদ্যুৎ একটি বড় জেলা শহরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমান। উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের বড় অংশ নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহারের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডেও বছরে গড়ে প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।