রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে দুই নৌকার সংঘর্ষে একটি ডুবে গেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ১৪ জন প্রতিযোগী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পদ্মা নদীর উড়াকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর গোদার বাজারে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলছিল। শনিবার ছিল প্রতিযোগিতার শেষ দিন। সন্ধ্যায় ‘নিউ সাড়ির ভিটা এক্সপ্রেস’ ও ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’ নৌকার মধ্যে ফাইনাল রাউন্ডের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে দুই নৌকার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ‘নিউ সাড়ির ভিটা এক্সপ্রেস’ নৌকাটি নদীতে ডুবে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এ সময় ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’ নৌকার প্রতিযোগীরা বৈঠা দিয়ে ‘নিউ সাড়ির ভিটা এক্সপ্রেস’ নৌকার প্রতিযোগীদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ১৪ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনার আমিনপুরের আমজাদ শেখের ছেলে রাকিব (১৭), আবুল হোসেনের ছেলে রওশন (৪০), রওশন শেখের ছেলে মাসুদ শেখ (৩০), ইউসুফ শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৩৫), আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে সুজাত শেখ (২৬), হারুন সরদারের ছেলে লতিফ সরদার (৩৫), সোবহান শেখের ছেলে শরিফ শেখ (৩০), আক্কাস আলীর ছেলে সাদ্দাম (৩৭), বাবলু (৪০), ইসরাফিল (৪৭), জাহাঙ্গীরের ছেলে হাবিব (২৫), সফি শেখের ছেলে কায়েস (১৮) এবং রাজবাড়ীর কালুখালীর মৃগী এলাকার আকবর শেখের ছেলে আলাউদ্দিন (৩৫) ও শফিকুল ইসলাম (৪৪)। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
‘নিউ সাড়ির ভিটা এক্সপ্রেস’ নৌকার মালিক তৈয়ব আলী বলেন, আমরা শেষ রাউন্ডের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ছিলাম। এ সময় ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’ নৌকার মাঝিরা তাদের নৌকা দিয়ে আমাদের নৌকাটি চাপা দেন। এতে আমাদের নৌকাটি পানিতে ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া নৌকার মাঝিদের ওপর অতর্কিতভাবে বৈঠা দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে আমার নৌকার অন্তত ১৪ জন মাঝি আহত হয়েছেন।
জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সোহেল শফিক তমাল বলেন, আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ‘নিউ সাড়ির ভিটা’ নামে একটি নৌকা ডুবে যায়। পরে নৌকার মাঝিদের উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত কারও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব এবিএম অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম দুলাল জানান, প্রতিযোগিতার শেষ রাউন্ডে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।