চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনে রোগীদের জিম্মি করে বেশি দামে ডাব বিক্রি, ভারতীয় অনুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশনের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে চমেক হাসপাতাল এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে এসব অনিয়ম ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ।
অভিযানকালে চমেক হাসপাতালের সামনের ‘রাইছা মেডিকেল হল’ নামের এক ফার্মেসিতে ড্রাগ রেজিস্ট্রেশন (ডিআর) নম্বরবিহীন ভারতীয় ইনজেকশন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। হৃদরোগ ও বিষপানের রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসব অননুমোদিত ওষুধ আসল নাকি নকল, তা নিয়ে চরম ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ফার্মেসিটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর পাশাপাশি হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনদের কাছে চড়া দামে ডাব বিক্রি এবং কেনার রসিদ দেখাতে না পারায় ‘নয়ন’ নামের এক ব্যবসায়ীকে তিন হাজার টাকা এবং নোংরা পরিবেশে খাবার বিক্রির অপরাধে ‘ভান্ডারী হোটেল’কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মুহাম্মদ শহীদ নামের এক ক্রেতা জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সময় চমেক হাসপাতালের সামনে তার কাছে একটি ডাবের দাম চাওয়া হয়েছিল ১৫০ টাকা। তবে ভোক্তা অধিকারের টিম সেখানে পৌঁছামাত্রই বিক্রেতা ডাবের দাম এক লাফে ১২০ টাকায় নামিয়ে আনেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনে বেশি দামে ডাব বিক্রি, অননুমোদিত ওষুধ সংরক্ষণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশনের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে কোনো পণ্যে বা ওষুধে ঠকানো হলে আর প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালপুরে সার বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে জরিমানা