সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) ন্যাশনাল টিমস কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সভা শেষে তার বিস্তারিত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, ফিফা আসিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা, বাফুফের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
বিগত আসিয়ান কাপে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে নিয়মিত রিপোর্ট পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আসায়, সাফের প্রস্তুতির জন্য ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সমর্থনের বিষয়টি নোট করা হয়েছে।
জাতীয় দলকে আরও শক্তিশালী করতে এখন থেকে প্রতিটি ফিফা উইন্ডোতে আলাদা করে একটি অনূর্ধ্ব-২৩ দল গঠন করা হবে এবং তাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলা হবে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে জাতীয় দলের শেষ ধাপ বা পাইপলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের জন্য বছরে দুটি স্কাউটিং ক্যাম্প পরিচালনা করবে বাফুফে। ইংল্যান্ড থেকে হামজা চৌধুরী আসার পর কিউবা মিচেল, ফারহান আলী ওয়াহিদসহ বয়সভিত্তিক দলে বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময়ী ফুটবলার লাল সবুজের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। সঠিক স্কাউটিং এর মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই আরও জোরালো পদক্ষেপ হাতে নিচ্ছে বাফুফে।
তাবিথ আউয়াল বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্য থেকে নতুন ফুটবলার তৈরির একটি শক্তিশালী পথ উন্মোচন করবে।' তবে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো বিদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব দিয়ে দলে নেওয়ার বদলে বাংলাদেশ কেবল খাঁটি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ওপরই জোর দেবে বলে তিনি পরিষ্কার করেন।
আসিয়ান কাপে কিছু খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ফেসবুকে আসা ছবি ও বিষয়গুলো নিয়ে কমিটি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করবে এবং খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপের সুপারিশ করবে। টাঙ্গাইলের ক্যাম্প নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সাথে কাউন্সেলিং করা হবে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং অন্যান্য টুর্নামেন্টের জন্য সাফের ক্যাম্প ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ভেতরে বিদেশি বা ক্লাব দলের সাথে প্রীতি ম্যাচের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় লিগের মাঠের মান উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে খেলোয়াড়রা ইনজুরির ঝুঁকিমুক্ত থাকে এবং একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ পায়।
এছাড়া সাফ চলাকালীন ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহারের জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা আধুনিক ফুটবলে অত্যন্ত জরুরি।