খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সেনা মোতায়েন পাকিস্তানের

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনীর সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির পর প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের বিভিন্ন সড়কে পণ্যবাহী কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। প্রদেশটির বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ল্যান্ডফোন ও টেলিযোগাযোগ সেবা।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় আগে জারি করা এসব পদক্ষেপ অনুমোদন করা হয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সুপারিশে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এসআরও (১)/২০২৬-এর মাধ্যমে সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়। সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, প্রদেশে ‘জীবনের নিরাপত্তা, নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষা এবং সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসনসংক্রান্ত ঘোষণার কার্যকারিতা যত দিন থাকবে, তত দিন এই অনুমোদনও বহাল থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদে সরকারকে দেওয়া ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের (জিএইচকিউ) সামরিক অভিযান পরিচালনা পরিদপ্তরের সঙ্গে পরামর্শ করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি প্রয়োজনীয় সেনাসদস্য ও সামরিক সরঞ্জামের সংখ্যা নির্ধারণ করবেন।

মূলত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতৃত্বাধীন। অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশটির সরকার পরিচালনা করছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলে রয়েছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমনের নীতি অন্যতম। এ বিরোধের কারণেই গত ৩ অক্টোবর তাদের মধ্যে চলা আলোচনা ভেঙে পড়ে। পিটিআইয়ের অভিযোগ, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দলটিকে বাইরে রাখা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পিটিআই সন্ত্রাসবাদ দমনের নীতি পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে আসছে এবং সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছে।

জরুরি অবস্থা জারির পর প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পেশোয়ার রেলস্টেশনের কাছে কনটেইনার বসিয়ে খাইবার বাজার, শোবা বাজার ও এর বাইরের দিকে যাওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে। এডওয়ার্ডস কলেজের কাছেও কনটেইনার বসানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত