রুশ জ্বালানি নিয়ে ট্রাম্পের ‘ইউটার্ন’

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে নিজের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়ে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির একটি চুক্তি ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার টেলিফোনে পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, রাশিয়া প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে অবিলম্বে ৩ লাখ টন এবং পরবর্তীতে নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন আর ‘তার ঠিক পরেই’ আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর অবস্থার ওপর নির্ভর করে ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে’ আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। মস্কোও নিশ্চিত করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই রুশ জ্বালানি নিয়ে তার দ্বিচারিতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কেননা রুশ জ্বালানি তেল-গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিতে মাত্র তিন সপ্তাহ আগে খোদ ট্রাম্প একটি আইনে সই করেছিলেন। কিন্তু এখন পুরোপুরি নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনিই রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরা অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী বছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে।

মূলত ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাওয়ায় রুশ ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাম্পে জ্বালানি কিনতে বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও। সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিনির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি চালানো এবং কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে এসব অঙ্গরাজ্য ডিজেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল। তাই আইওয়া, কানসাস, টেক্সাস ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যগুলো আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারণ করবে এ নির্বাচন। তবে রাশিয়া কীভাবে বিশ্ববাজারে এই জ্বালানি সরবরাহ করবে, বিনিময়ে নগদ অর্থের মতো জরুরি বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়া দেশটি আর কী পাবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

দলকে রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প। তেলের মজুদ থেকে আরও বেশি তেল বাজারে ছাড়ার জন্য সম্প্রতি তিনি ইউরোপের মিত্রদেশগুলোর ওপর চাপ দিয়েছেন। জ্বালানির ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের কর স্থগিত করেছেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরান যুদ্ধ যে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলছে, এ ঘোষণা যেন তারই খোলামেলা স্বীকারোক্তি। এ চুক্তির কারণে ইউরোপের মিত্রদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চুক্তিটিকে পুতিনের জন্য একটি ‘উপহার’ বলে অভিহিত করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, রাশিয়াকে জ্বালানি পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া মানে এমন একটি যুদ্ধে বিনিয়োগ করা, যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত নয়, বরং শেষ করা প্রয়োজন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার (জেলেনস্কি) উচিত এসব বন্ধ করা। ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত