মৌসুম পেরোলেও মাচায় হাসছে তরমুজ

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ এএম

তরমুজের মৌসুম শেষ হলেও থেমে নেই চাষাবাদ। অসময়কে সম্ভাবনায় পরিণত করে মাচায় তরমুজ চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন পটুয়াখালীর গলাচিপার কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাছের ঘেরের পাড় ও উঁচু জমিতে নানা ধরনের সবজি চাষের পাশাপাশি মাচা পদ্ধতিতে অসময়ের তরমুজ আবাদ করছেন তারা। ভালো ফলন ও বাজারে তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ার সম্ভাবনায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ ও উৎসাহ। গত কয়েক বছর তরমুজ চাষ করে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। ফলে প্রচলিত মৌসুমের বাইরে নতুন পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি বিভাগের কারিগরি পরামর্শ ও আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে অসময়ের এই চাষে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।

গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট চর কাজল গ্রামের ফোরকান মোল্লার ছেলে পলাশ মোল্লা তেমনই একজন কৃষক। তিনি চর বিশ্বাস ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪৮ শতাংশ জমিতে মাচা পদ্ধতিতে অসময়ের তরমুজ চাষ করেছেন। স্ত্রী তহমিনা বেগমকে সঙ্গে নিয়েই ক্ষেত পরিচর্যা করেন পলাশ মোল্লা। তার জমিতে দেখা যায় মাচা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তরমুজের লতা। গাছে ঝুলছে অসংখ্য তরমুজ। এর মধ্যে বেশির ভাগ তরমুজ পরিপক্ব হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব তরমুজ বাজারজাত করার উপযোগী হবে বলে আশা করছেন কৃষক।

পলাশ মোল্লা জানান, স্থানীয় ডিলার শহীদ মিয়ার পরামর্শে তরমুজের বীজ সংগ্রহ করেন ও আবাদ শুরু করেন তিনি। এ বছরও তার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে তার জমিতে প্রায় ১ হাজার ৪৫০টি তরমুজের মধ্যে প্রায় ১০০টি তরমুজের ওজন ১০ কেজির মতো হয়েছে। অন্যগুলোর ওজন ৫ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত হবে বলে জানান তিনি। তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করেছেন।

গলাচিপার কৃষকরা মনে করছেন, অসময়ে তরমুজ চাষ শুধু বাড়তি আয়ের পথই তৈরি করছে না, বরং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমের বাইরেও তরমুজ উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গলাচিপা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেলের মতে, অসময়ে তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সাধারণ মৌসুমের তুলনায় এ সময়ে বাজারে তরমুজের আলাদা চাহিদা থাকে। ফলে কৃষকরা ভালো মূল্য পেয়ে থাকেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সার্বিক সহায়তা ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরজু আক্তার মতে, অসময়ের তরমুজ চাষ সফল করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ, আধুনিক তদারকি ও সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে কৃষকরা যাতে কাক্সিক্ষত ফলন পেতে পারেন, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি কার্যক্রমে কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থাকবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত