সেতু আছে সড়ক নেই

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

একসময় শোনা যেত, নদী আছে, সড়ক আছে, সেতু নেই। নৌকা করে পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ। কিন্তু এখন বাস্তব চিত্র উল্টো, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের বেকের বাজার এলাকায় ছোট ফেনী নদীর ওপর সেতু আছে কিন্তু সড়ক নেই। আর সেই সেতু পার হচ্ছে হাজারো মানুষ লোহার তৈরি সিঁড়ি বেয়ে। সেতু আছে, নেই সংযোগ সড়ক। সংযোগ সড়ক না থাকায় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু কাজে আসছে না। অথচ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সময় কয়েক বছর আগেই শেষ হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অবশ্য সংযোগ সড়ক তৈরি নিয়ে গৎবাঁধা নিয়মে আশ্বাসবাণী শুনিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন। এ কারণে কোনো কাজেই আসছে না সেতু। উল্টো অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে যোগাযোগব্যবস্থায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা থেকে বেকের বাজার সড়ক ও ছোট ফেনী নদীর ওপর ৬০ মিটার সেতু ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে এলজিইডি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর কাজ শেষ করলেও সংযোগ সড়কসহ ৩০ ভাগ কাজ বাকি। যার ফলে সেতু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যান চলাচল তো দূরের কথাÑ সড়ক আর সেতুর উচ্চতার বড় ব্যবধানে মানুষ পারাপারও সম্ভব হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘবে মানুষ যেন পায়ে হেঁটে সেতু পার হতে পারে তার উদ্যোগ নেন আমরাই জুলাই যোদ্ধা ফেনী জেলা শাখার সেক্রেটারি দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন।

তিনি জানান, আশ্রাফপুর-মোমারিজপুর সংযোগ সেতুর রাস্তা নির্মাণের কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যেতে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। যার ফলে স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে সেতুতে ওঠার জন্য দুই পাশে দুটি সিঁড়ি স্থাপন করা হয়। তিনি জানান, ২৩ ফুট উঁচু ও আড়াই ফুট চওড়া লোহার সিঁড়ি স্থাপনে এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যার অর্থ সহায়তা করেছেন ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এর ফলে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কিছুটা কমবে বলে জানান- মোমারিজপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল কালাম ধনা মিয়া।

মোমারিজপুর গ্রামের ফাতেমা খাতুন ও রহিমা বেগম জানান, ‘সেতুর কাজের সময় নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়। বন্যার সময় সেই বাঁধ দিয়ে পানি যেতে পারেনি। আমাদের বাড়ির ওপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যায়। যার ফলে আমাদের ঘরবাড়ি, টিউবওয়েল, বাথরুমের কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বাকি অংশটুকু যাওয়ার পথে।’

ফেনীর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ জামিল বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কের জায়গা অধিগ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসকের কাছে জমি অধিগ্রহণের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। আশা করছি সংযোগ সড়কের জায়গা নিয়ে যে জটিলতা তা সহসাই কেটে যাবে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মাহবুবউল করিম বলেন, সেতু হয়েছে। সংযোগ সড়কের অভাবে তা ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যাচ্ছে না। কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা করি। জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে সেতু চলাচল উপযোগী করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত