উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির উচ্চমূল্য, সুদের হার বৃদ্ধি ও জলবায়ুগত সংকটের চাপে আরও বিপাকে পড়তে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলো। খবর রয়টার্সের।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট যখন আরও গভীর হচ্ছে, তখন সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুঁজছে ইউএনডিপি। মঙ্গলবার সংস্থাটি এ লক্ষ্যে নতুন কয়েকটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে।
ইউএনডিপির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু জানিয়েছেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (ইবিআরডি), ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি), অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।
ব্যাংকক, থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডি ক্রু বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন জোরদার এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বাড়াতে সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু কোভিড মহামারির পর থেকে একের পর এক সংকটের কারণে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, 'উন্নয়নে অর্থায়নের ধরন বদলাচ্ছে, যা ভালো বিষয়। তবে দেশগুলো যাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, সে জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।'
ডি ক্রুর মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলো বর্তমানে এমন কিছু সংকটের মুখে রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ২০২০-২০২১ সালের কোভিড মহামারির সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে এখনই ঋণ মওকুফ বা ঋণ পুনর্গঠনের মতো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করার সময় আসেনি বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্য, সুদের হার বৃদ্ধি এবং ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে তীব্র এল নিনোর আশঙ্কার মধ্যে থাকা দেশগুলোর তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট মোকাবিলায় প্রথমে দেশীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এরপরই দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশ জ্বালানি ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এতে সরকারের ওপর বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে সম্ভাব্য সুপার এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অনেক দেশের আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা বা বাজেটের অতিরিক্ত সঞ্চয় ইতিমধ্যেই ফুরিয়ে আসছে। ফলে সরকারগুলো বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
ডি ক্রুর আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোসহ বর্তমানে উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আসা অন্যান্য দেশও তাদের সহায়তা কমিয়ে দিতে পারে।
ইউএনডিপির নতুন উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার মধ্যেও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।