ছোট্ট আদিবা আর ফিরল না, মৃত্যু শয্যায় মা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

একই পরিবারের মা ও মেয়ের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য দুজনকেই ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। কিন্তু চার বছরের ছোট্ট আদিবা আর ফিরল না। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাকে ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছে সে। অন্যদিকে, হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তার মা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা শেখ নিরব হোসেন স্বপন।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের নারানাটিয়া গ্রামের শেখবাড়ির বাসিন্দা পরিবারটিতে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত নয়টার দিকে মারা যায় শেখ আদিবা (৪)। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল নয়টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ১১টার দিকে আদিবার জ্বর আসে। সাধারণ জ্বর ভেবে প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানো শুরু করেন তার বাবা-মা। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে জ্বর আসে আদিবার মা হাফিজা আক্তার সাথীরও। প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবনের পরও দুজনের জ্বর না কমায় গত রোববার তাঁদের ঢাকার স্পেশালিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মা ও মেয়ের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

পরে আদিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের ৬০৮ নম্বর কক্ষে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আদিবার বাবা শেখ নিরব হোসেন স্বপন ঢাকার উত্তরায় একটি ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন তিনি। মেয়েকে হারানোর পর দাফন শেষ করে আবার অসুস্থ স্ত্রীর কাছে ছুটে যেতে হয়েছে তাঁকে।

আদিবার জ্যাঠা শেখ রোপণ বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শেখ নিরব হোসেন স্বপনের একমাত্র মেয়ে আদিবা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তার স্ত্রীও হাসপাতালে ভর্তি, তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। দাফন-কাফন শেষ হয়েছে।’

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাক্‌রুদ্ধ আদিবার বাবা শেখ নিরব হোসেন স্বপন। ভারী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত ৭ অক্টোবর বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে মেয়ে আদিবার জ্বর আসে। পরদিন বৃহস্পতিবার রাত থেকে স্ত্রীর জ্বর শুরু হয়। স্বাভাবিক জ্বর মনে করে প্রথমে ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়াই। জ্বর না কমায় চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ালেও কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। পরে গত রোববার ঢাকা স্পেশালিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে গত সোমবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে আমার একমাত্র মেয়ে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘দাফন শেষে আবার স্ত্রীর কাছে যাচ্ছি। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। কাউকে কিছু বলার সময়ও পাইনি, ভাষাও খুঁজে পাচ্ছি না। সবাই আমার স্ত্রী-সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।’

চার বছরের আদিবার মৃত্যুতে নারানাটিয়া গ্রামের শেখবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একদিকে একমাত্র সন্তান হারানোর অসহনীয় শোক, অন্যদিকে হাসপাতালের বিছানায় স্ত্রীর জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তা—এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় কাটছে স্বপনের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত