নাটোরের লালপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে লালপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে লালপুর থানা চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুল হাসান।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার কর্মকার, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক পরিমল কুমার ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার। এছাড়া উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা সভায় অংশ নেন।
সভায় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা, পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ এবং পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা হিন্দু-মুসলিম একই দেশে পাশাপাশি বসবাস করি। আমরা আপনাদেরটা দেখব, আপনারা আমাদেরটা দেখবেন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনা ধারণ করে সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে। দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা যায়, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথি সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুল হাসান বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদেরও সচেতন থাকতে হবে। কোনো গুজব, উসকানি বা সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে নিজেরা আইন হাতে তুলে না নিয়ে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবাই মিলে উৎসবটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
সভায় পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।