এনসিপির আলোচনায় বক্তারা

বিএনপির মুখে জুলাই অন্তরে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৬ এএম

জুলাই গণহত্যার বিচারের কাজটি সরকারের কাছে দায়সারা একটি ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সরকার কীভাবে বিচার করবে, বিএনপির তো মুখে জুলাই অন্তরে আওয়ামী লীগ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণবিষয়ক কমিটি ‘জুলাই গণহত্যার বিচার : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসা, দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথে হাঁটছে। চেয়েছিলাম, রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন হবে। সবাই ন্যায়সংগতভাবে সমান আচরণ পাবেন। কিন্তু দেখলাম, শুধু চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে। কেউ এমপি হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে অনেকের অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন হয়নি। ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমানকে বসানো হয়েছে। এই গাড়ির ইঞ্জিন, স্টিয়ারিং ও চাকা ঠিক না থাকলে যত দক্ষ চালকই হোন না কেন, গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না।’

বিএনপির একটি অংশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে হাসনাত বলেন, ‘বিএনপির মুখে জুলাই, কিন্তু অন্তরে আওয়ামী লীগ এমন একটি সম্পর্ক দেশের রাজনীতিতে অস্বস্তি তৈরি করেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে আসা নতুন অংশের পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকা- ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা না করে অনেক মামলায় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরে এসব মামলাকে অর্থ আদায় ও আপস-বাণিজ্যের উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যাকা-ের মামলাগুলোর বিচার দ্রুত শেষ করা, আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা এবং পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারের কাজটি একটা দায়সারা ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। দুবাইয়ে বেনজীরকে আটক হলো, সংসদে দাঁড়িয়ে ক্রেডিট নিল সরকার। পরে যখন বেনজীর ছাড়া পেল তখন আর সরকার কিছু বলে না, একদম চুপ। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার কী করবে চাঁদাবাজি সামলাতেই কূল পায় না। দলটি এক কোটি চাঁদাবাজে ভরা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ্যডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দল বিএনপি সরকারকে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বলছি জুলাই গণহত্যার বিচার কাজ তরান্বিত করতে।’

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আ্যডভোকেট হুমায়রা নূর বলেন, কিছু অসাধু পুলিশ জুলাই গণহত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে। এরা গাদ্দার একেকজন। ট্রাইব্যুনালে এবং তদন্তের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের কাছে আল্লাহর ওয়াস্তে অনুরোধ করতে চাই শহীদদের রক্তের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করুন, বিচারের কাজে আন্তরিক হোন।

ন্যাশনাল লইয়ার্স এলায়েন্সের সদস্য সচিব আ্যডভোকেট এরশাদুল বারী খন্দকার বলেন, যেই বিরোধী দল ১৭ বছরে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি সেই দলটিকে বিশ্বাস করা আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কথা শুনলে মনে হয় না সরকার জুলাই গণহত্যার বিচার করতে চায়।

জুলাই শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী বলেন, খুনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তির যে রায় হলো সেখানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তিটা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। ফাঁসির রায় কার্যকরে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ দেখতে চাই আমরা, সরকার যেন আমাদের স্পেসিফিক আপডেটটা দেয়। তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যায় যারা জড়িত, তাদের শাস্তি নিশ্চিত হোক সেরকম বিচার চাই।

জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের সভাপতি ও আহত জুলাই যোদ্ধা সালমান হোসেন বলেন, ‘আমি যেমন ট্রমার মধ্য দিয়ে রাত কাটাই, সেরকম ট্রমার মধ্য দিয়ে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাত কাটাতে হতো, তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন কেন আমরা বিচারের জন্য এত কথা বলি।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আ্যডভোকেট আরমান হোসাইনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের সহ-সভাপতি আহত জুলাই যোদ্ধা মায়মুনা মায়া বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রশ্ন করতে চাই তারা জুলাই গণহত্যার বিচার কার্যকরে কতটুকু আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত