রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্ত হলো স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ এএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। রাশিয়ার বাইরে এই প্রথম রোসাটমের কোনো প্রকল্পে ‘অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস এ ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। এতে ৪৩টি উপব্যবস্থার অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এর মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট ৭ হাজারেরও বেশি নির্দেশক নিরন্তর পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে কেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ ইউনিটের ডিজিটাল প্রতিরূপ, অর্থাৎ ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ইউনিটে সিস্টেমটি এর মধ্যে সংযুক্ত হয়ে প্রাথমিক চালুকরণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ব্যবস্থা বসানো হবে।

সিস্টেমটি ৩৬০টি প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করে। জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্দেশনাসহ ৮০টিরও বেশি নির্দেশিকার ভিত্তিতে অপারেটরদের পরামর্শ দেয়। জটিল পরিচালনা তথ্য সহজভাবে উপস্থাপনের ফলে অপারেটররা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে ও পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে সামাল দিতে পারবেন।

রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেছেন, রূপপুর শুধু রাশিয়া ও বাংলাদেশের সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্পই নয়, আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারেও এটি তাদের অগ্রণী প্রকল্প। বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো কেন্দ্রে এই প্রথম এমন সহায়ক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার দাবি, এ ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমাবে, পরিচালন ব্যয় কমাবে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

এর আগে গত রোববার বিকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট সফলভাবে রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে স্বনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান। তিনি আরও জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এটি অর্জনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। আধুনিক প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে গড়ে ওঠা এ কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট করে। রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট এটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত