অভিবাসন সেবা জোরদারে জেলা-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করছে আইওএম

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

অভিবাসন সেবা জোরদার এবং অভিবাসী ও প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারকে জেলা-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। এ লক্ষ্যে দেশের নয়টি জেলায় ধারাবাহিক কৌশলগত কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদারীপুরে।

বুধবার মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় জেলা প্রশাসন, জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, পটুয়াখালী, খুলনা, রংপুর ও জামালপুর জেলায় একই ধরনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘প্রত্যাশা ২: অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও টেকসই পুনঃএকত্রীকরণের উন্নয়নে সেবা প্রদান ব্যবস্থা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নবিষয়ক পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোসহ জাতীয় পর্যায়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলোকে স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রমে রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি সেবা, সুরক্ষা এবং পুনঃএকত্রীকরণ সহায়তায় অভিবাসীদের প্রবেশাধিকার বাড়ানো।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালাহউদ্দিন। এতে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তর, অভিবাসন সেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় জেলার অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সেবার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি জেলা-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব বণ্টন, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং সমন্বয়ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম সচিব সালাহউদ্দিন বলেন, ‘অভিবাসনের সুফল সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য মানুষকে প্রস্তুত করা, পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশে ফেরার পর পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, জেলা-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জাতীয় অভিবাসন অগ্রাধিকারের সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সংযোগ ঘটাবে। এর মাধ্যমে সারা দেশে আরও সমন্বিত ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, জেলা পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি, যাতে অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ স্থানীয় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার পাশাপাশি অভিবাসন সেবাকে আরও সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়তা করবে।

আইওএম বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদার, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অভিবাসী ও প্রত্যাবর্তনকারীদের টেকসই পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা দিয়ে আসছে। নয়টি জেলায় জেলা-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের এ উদ্যোগ সেই কার্যক্রমেরই অংশ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত