১৮০০ সালে প্রথম মানুষের চোখে ধরা দিয়েছিল বিরল প্রজাতির মাছ হ্যান্ডফিশ। ফ্রান্সের প্রাণিবিদ ফ্রানসিস ফেরোঁ সামনে এনেছিলেন উপস্থিতি। তবে বিলুপ্ত হতে হতে ২০০০ সালে অবশিষ্ট ছিল মাত্র ৪টি প্রজাতি। বর্তমানে কেবল অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে মাছটি। এটি এমন ধরনের মাছ, যাদের পাখনার জায়গায় রয়েছে হাতের মতো অঙ্গ। এ দিয়ে সমুদ্রের গভীরে তারা বেড়াতে পারে। প্রায় ৩০ কোটি বছর ধরে হ্যান্ডফিশ পৃথিবীতে টিকে রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও শারীরিক গঠনে তেমন পরিবর্তন আসেনি, যা বিবর্তনের ইতিহাস বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করে। এটি গভীর সমুদ্রের অদ্ভুত এবং প্রাচীনতম মেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের গঠন ও জীবনযাত্রার কারণে তারা সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের অন্যতম বিস্ময়কর এবং কৌতূহলপূর্ণ প্রাণী হিসেবে পরিচিত। অবাক বিষয় হচ্ছে, এদের কোনো চোয়াল নেই। মুখগহ্বরে থাকা করাতের মতো দাঁত দিয়ে তাদের খাবার খায়। শরীর নরম তরুণাস্থি দিয়ে গঠিত। সমুদ্রের অন্ধকারে বাস করার কারণে, এদের চোখ প্রায় নিষ্ক্রিয় এবং চামড়ায় ঢাকা। হ্যান্ডফিশের আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো, কাদাসদৃশ শ্লেষ্মা তৈরির ক্ষমতা। আক্রান্ত হলে এরা শরীর থেকে এক ধরনের তরল নিঃসরণ করে, যা পানির সংস্পর্শে এসে আঠালো ও ঘন কাদায় পরিণত হয়। এই কাদা শিকারি প্রাণীর ফুলকা আটকে দেয়, ফলে তারা শ^াসরোধের ভয়ে পালাতে বাধ্য হয়। এরা মূলত মৃত বা পচনশীল প্রাণীর দেহাবশেষ খেয়ে বাঁচে। হ্যান্ডফিশকে সমুদ্রের ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী’ বলা চলে। কারণ মৃত জীবদেহ দ্রুত খেয়ে ফেলে সমুদ্রের পরিবেশ পরিষ্কার রাখে তারা।