চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর পর ব্যথা কমাতে ফিজিওথেরাপি

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত রোগ, যার প্রধান উপসর্গ হলো তীব্র জ¦রের সঙ্গে হাত-পা ও বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ব্যথা। জ¦র ও অন্যান্য উপসর্গ কয়েক দিনের মধ্যে কমে গেলেও অস্থিসন্ধির ব্যথা, আড়ষ্টতা, দুর্বলতা ও চলাফেরায় অস্বস্তি দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। বিশেষ করে হাঁটু, কবজি, গোড়ালি, কাঁধ ও আঙুলের অস্থিসন্ধিতে এসব সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি পরিকল্পিত ও ধীরে ধীরে বাড়ানো ফিজিওথেরাপি রোগীর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

সপ্তাহভিত্তিক ফিজিওথেরাপি রুটিন

সপ্তাহ ১ ও ২ : ব্যথা ও আড়ষ্টতা কমানো

প্রথম পর্যায়ে মূল লক্ষ্য থাকবে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং অস্থিসন্ধির নড়াচড়া স্বাভাবিক রাখা। দিনে ২ থেকে ৩ বার ১৫ মিনিট হালকা গরম সেঁক দেওয়া।

এ সময় হালকা জধহমব ড়ভ গড়ঃরড়হ ব্যায়াম করা যেতে পারে। যেমন আঙুল ধীরে মুঠো করা ও খোলা, কবজি ঘড়ির কাঁটার দিকে ও বিপরীত দিকে ঘোরানো, গোড়ালি ওঠানো-নামানো এবং হাঁটু ধীরে ভাঁজ ও সোজা করা। প্রতিটি ব্যায়াম ৮ থেকে ১০ বার দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

সপ্তাহ ৩ ও ৪ : স্ট্রেচিং ও হালকা

শক্তিবর্ধক ব্যায়াম

এ পর্যায়ে আগের জঙগ ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হালকা স্ট্রেচিং শুরু করা যায়। হাত-পায়ের পেশি ধীরে টেনে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড ধরে রাখা যেতে পারে। হ্যামস্ট্রিং বা ঊরুর পেছনের পেশির জন্য নিরাপদ স্ট্রেচিং এবং কাঁধের হালকা স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। রোগীর সক্ষমতা অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ বার

করা ভালো।

সপ্তাহ ৫ থেকে ৬ : পেশির শক্তি বৃদ্ধি

ব্যথা ও আড়ষ্টতা কমে এলে হালকা রেজিস্ট্যান্স বা থেরাব্যান্ডের সাহায্যে ব্যায়াম শুরু করা যেতে পারে। পাশাপাশি সহনীয় মাত্রায় প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে

তুলতে হবে।

সপ্তাহ ৭ থেকে ৮ : স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় ফেরা

এ পর্যায়ে দৈনন্দিন কাজ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হবে। হাঁটার সময় ও গতি বাড়ানো, হালকা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম, প্রয়োজন অনুযায়ী যোগব্যায়াম এবং সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করা যেতে পারে।

সতর্কতা

ব্যায়ামের সময় ব্যথা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বা নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামও জরুরি। অতিরিক্ত ওজন থাকলে অস্থিসন্ধির ওপর চাপ বাড়তে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত