পদযাত্রার ঘোষণা দিল সিজেপি, সতর্ক দিল্লি পুলিশ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ এএম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করছে দিল্লি পুলিশ। এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সম্ভাব্য জমায়েত মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। খবর এনডিটিভি। 

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দিল্লি পুলিশের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বিভাগের দুই জোনের বিশেষ পুলিশ কমিশনারসহ অপরাধ দমন শাখা, স্পেশাল সেল, গোয়েন্দা বিভাগ ও ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। এ ছাড়া নিউ দিল্লি রেঞ্জের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এবং নিউ দিল্লি জেলার উপপুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সিজেপির প্রস্তাবিত তেরঙ্গা পদযাত্রা ঘিরে কতটা নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন, তা বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে ভারতের ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারার আওতায় জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হবে। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কসহ মধ্য দিল্লির কোথাও বড় ধরনের জমায়েত হতে না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

আরেক কর্মকর্তা জানান, কনট প্লেস ও মধ্য দিল্লির অন্যান্য এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বিকল্প পথ নির্ধারণও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

তিনি বলেন, জন্তর মন্তরে প্রবেশের মূলত তিনটি পথ থাকলেও কনট প্লেসে প্রবেশ ও বের হওয়ার একাধিক পথ রয়েছে। চারদিক থেকেই সেখানে যাওয়া যায়। তাই সব প্রবেশপথ বন্ধ বা ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর প্রবেশ ও বহির্গমন পথ বন্ধ রাখা হবে কি না, সে সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার অভিজিৎ দীপকে ‘দেশপ্রেমিকদের’ শুক্রবার জাতীয় পতাকা নিয়ে দিল্লির বাণিজ্যিক কেন্দ্র কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কারণে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার জন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাদ দেওয়া হয়। ওই এলাকায় শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা তিহার কারাগারে রয়েছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জন্তর মন্তরে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পর পুলিশ তাঁদের সরিয়ে নেয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে।

সম্ভাব্য জনসমাগম এবং রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে যোগ দেবেন কি না, তা জানতে গোয়েন্দা বিভাগ তথ্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে কনট প্লেস ও জন্তর মন্তরসহ নিউ দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দিল্লিতে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৭৩টি কোম্পানির অবস্থান ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভ মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিমধ্যে সিএপিএফের ২০০টি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আকস্মিক কিংবা পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মোকাবিলায় জন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহনও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শুক্রবারের তেরঙ্গা পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিতে পারেন—এমন সিজেপির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও অন্যান্য ব্যক্তির অবস্থান এবং চলাচলের ওপরও নজর রাখছে গোয়েন্দা বিভাগ।

এদিকে, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায় ক্ষতির অভিযোগ তুলে শুক্রবার কনট প্লেসের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এনডিটিএ) সভাপতি অতুল ভার্গব বলেন, বিক্ষোভের কারণে তাঁদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ব্যবসা কমে আগের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘কনট প্লেসের ব্যবসায়ীরা এসব বিক্ষোভে বিরক্ত। শুক্রবারও আমরা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভাড়া ও কর্মীদের বেতনসহ নিয়মিত খরচের কথা বিবেচনা করলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার হলেও শুক্রবার কনট প্লেসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত