গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই, ঘাতক স্বামী পলাতক, দুজন গ্রেপ্তার 

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর শিকলবাহা এলাকায় জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আড়াই মাস আগে বেড়ানোর কথা বলে সাম্পানে তুলে শিকলবাহা খালে নিয়ে স্বামী রাজা মিয়া তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দী করে মরদেহ ফেলে দেন।  

এ ঘটনার অভিযুক্ত স্বামী রাজা মিয়া পলাতক আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বুধবার সকালে মুসলিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে শুক্কুর আহম্মদ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে জান্নাতুল হত্যার দায় স্বীকার করে গতকাল বুধবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মুসলিম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান। 

পিবিআই'র এই কর্মকর্তা জানান, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন জান্নাতুল। বিয়ের সময় রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর জান্নাতুল জানতে পারেন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রী রয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরেই জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। 

পিবিআই'র ভাষ্য, চলতি বছরের ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর অন্য পাড়ে ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে আগে থেকেই সাম্পান নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মুসলিম উদ্দিন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ এবং অজ্ঞাতনামা আরেক ব্যক্তি। পরে জান্নাতুলকে নিয়ে তারা সাম্পানে ওঠেন।

সাম্পানটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালে প্রবেশ করে। রাত আটটার পর সাম্পানে রাজা মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজা মিয়া জান্নাতুলের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তার মুখ চেপে ধরেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরেক সহযোগী সাম্পানে রাখা ব্যাগ থেকে রশি ও বস্তা বের করেন। রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরলে জান্নাতুলের মৃত্যু হয়। পরে তার হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে দেওয়া হয়।

পরে ২ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খালে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দী ও হাত-পা বাঁধা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় নিহত জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে রাজা মিয়া ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত