‘ভারতে বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের চক্রান্ত চলছে’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর মতো শব্দের ব্যবহার থেকেই বোঝা যায়, বিরোধীদের এই আন্দোলন নির্বাচনী সংস্কার কিংবা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে নয়।

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

ভারতে বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যে এমনই অভিযোগ তুললেন ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার দাবি, যুবসমাজের শক্তিকে গঠনমূলক কাজে এবং দেশ গঠনে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক সংঘাত ও ‘নৈরাজ্য’ ছড়ানোর কাজে লাগাচ্ছে বিরোধীরা। খবর দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরব হন রাজনাথ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কিংবা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার অধিকার দেয় না। 

রাজনাথের কথায়, ‘মনে হচ্ছে, কংগ্রেস ও তাদের রাজনৈতিক সহযোগীরা প্রত্যক্ষভাবে এবং তাদের সমর্থক সংগঠনগুলির মাধ্যমে যুবসমাজের শক্তিকে রাজনৈতিক সংঘাত উসকে দেওয়া ও নৈরাজ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। সেই শক্তিকে গঠনমূলক কাজ ও দেশ গঠনের কাজে লাগানো উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের যুবসমাজকে নৈরাজ্যের রাজনীতিতে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী দলগুলি বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ধাঁচে ভারতে সরকার পরিবর্তন করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিরোধী নেতারা প্রকাশ্যেই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কথা বলছেন। অন্য এক নেতা সরকার ফেলে দেওয়ার কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজনাথের বক্তব্য, ‘এতে স্পষ্ট যে, তাদের একমাত্র লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করা এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।’ বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর মতো শব্দের ব্যবহার থেকেই বোঝা যায়, বিরোধীদের এই আন্দোলন নির্বাচনী সংস্কার কিংবা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে নয়।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বর্তমানে দিল্লিতে বড়সড় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিরোধী দলগুলি এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও সরব হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এর ফলে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ বলেন, রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীদের বুঝতে হবে যে গণতন্ত্রের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করা কিংবা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা দেওয়ার চেষ্টা বরদাস্ত করা যায় না।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইনকে সম্মান করাও অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির বেদিতে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বলি দেওয়া যায় না।’

রাজনাথের আরও দাবি, মিথ্যা প্রচার, ক্ষোভ ছড়ানো, প্রতিষ্ঠানগুলির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক সুবিধাবাদ—কোনও কিছুই ভারতের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

গণতন্ত্র রক্ষার নামে ‘ধ্বংসাত্মক রাজনীতি’ করার পরিবর্তে জনগণের রায়কে সম্মান জানানো এবং নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করার জন্য রাহুল গান্ধীকে পরামর্শ দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। সংঘাতের পথ নয়, আমাদের বেছে নিতে হবে আলোচনা ও দেশ গঠনের পথ।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত