রাতে পরিচ্ছন্ন হবে রাবি ক্যাম্পাস, আসছে নতুন দপ্তর

রাতের মধ্যেই পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কারের পরিকল্পনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। আগামী এক মাসের মধ্যে চালু হতে পারে নতুন স্বতন্ত্র দপ্তর।

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ‘পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’ নামে নতুন একটি স্বতন্ত্র দপ্তর চালু করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ দপ্তরের অধীনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের দায়িত্ব হবে রাতের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা, যাতে সকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পান।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৫০তম সভায় নতুন দপ্তর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতে পৃথক এ দপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাজও স্টুয়ার্ড সেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বড় পরিসরের ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন এ দপ্তর গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

সূত্র জানায়, নতুন দপ্তরের জন্য অর্গানোগ্রাম তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হবে। বাজেট ও জনবল কাঠামোর অনুমোদন পাওয়ার পর দপ্তরটির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। তবে বাজেট পাওয়ার আগেই দপ্তরটি গঠন করে কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

নতুন দপ্তরের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হল, আবাসিক কোয়ার্টার, ৫৯টি বিভাগসহ পুরো ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিষ্কারের কাজ শেষ করা হবে, যাতে প্রতিদিন সকালে পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একটি সেকশনের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে স্বতন্ত্র পরিচ্ছন্নতা দপ্তর গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শ্রমিক রাখা হবে। তাদের মূল কাজ হবে রাতের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা, যাতে সকালে সবাই একটি পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস উপভোগ করতে পারেন।

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম অনুসরণ করে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন রাতের শেষভাগে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা পরিষ্কার করে। একই ধরনের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়েও রাতের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন দপ্তর গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আলাদা দপ্তর, নির্দিষ্ট কাজের পরিধি এবং পর্যাপ্ত জনবল থাকা জরুরি।

দপ্তরটি কবে থেকে চালু হবে, জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর অর্গানোগ্রাম ইউজিসিতে পাঠানো হচ্ছে। বাজেট পাওয়ার আগেই দপ্তরটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত