ভবন থেকে পড়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের ভেতরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট থেকে নিচে পড়ে গিয়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের (৭২) মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার ছোট মেয়েকে সাঁতার শেখাতে ক্লাবের সুইমিংপুলে যান তিনি। মেয়েকে সেখানে রেখে একপর্যায়ে ক্লাবের অফিসের দিকে যাওয়ার সময় নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।

পরে শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির বেজমেন্ট-১-এর ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে বেজমেন্ট-৩ এর মেঝেতে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ভবনটির নিচতলার সিঁড়ির পাশ থেকে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফিরলে দাফন সম্পন্ন হবে।

ঢাকা মেডিকেলে লাশ নিয়ে আসা নিহতের মামাতো ভাই নাজমুল হাসান মিলন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোশারফ হোসেন তার ছোট মেয়েকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবে প্রবেশ করেন। সাঁতার শেখার পর বাবাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মেয়ে। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়, তিনি ক্লাবের বাইরে যাননি। এরপর ভবনের বেজমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

নাজমুল হাসান মিলন বলেন, সম্প্রতি ছোট মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। তাই সকালে ক্লাবে যাওয়ার পর মেয়েকে সুইমিংয়ের জন্য পাঠিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দিতে ভবনের নির্মাণাধীন অংশে যান তিনি। ‘তিনি চোখে অনেক কম দেখতেন। সম্ভবত আসলে লিফট খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একবার সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন, একবার উঠছিলেন। এর মধ্যে নিচে থেকে কারেন্টের তার তোলার জন্য একটা ফাঁকা জায়গা আছে, সেখান দিয়ে তিনি অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়ে মারা যান। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মোশাররফ হোসেন বিসিএস ৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তিনি রাজধানীর বনানীতে থাকতেন এবং অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মোশাররফ হোসেনের বয়স প্রায় ৭২ বছর। তিনি চোখে কম দেখতেন। ভবনটিতে তিনটি বেজমেন্ট রয়েছে। সেখানে প্রায় দুই ফুট বাই ১০ ফুটের একটি গর্ত ছিল। শুক্রবার তিনি বেজমেন্ট-১-এ আসেন। পরে অন্ধকারে দেখতে না পেয়ে ভুল করে বেজমেন্ট-৩ গর্তে পড়ে যান। ভবনের সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত