ভোলায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

ভোলার সদর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে আসিফ (২৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসিফের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. ধলু হাওলাদার ও হালিমা বেগম দম্পতির ছেলে। অন্যদিকে, আহত বিএনপি নেতা মো. হোসেন ম্যানেজার রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজাপুরের আনন্দবাজার এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে বিএনপি নেতা হোসেনকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করার অভিযোগ ওঠে আসিফের বিরুদ্ধে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আহত নেতার স্বজনেরা আসিফকে আটক করে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন আসিফ।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত আসিফকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়। এদিকে, গুরুতর আহত বিএনপি নেতা হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বশির আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত আসিফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ভোরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে আসিফ প্রথমে একজনকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আহত ব্যক্তির স্বজনেরা তাকে মারধর করেন। স্থানীয় লোকজনও এতে অংশ নেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ওসি আরও জানান, নিহত আসিফের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত