টিকটকের টানে ঘরছাড়া সেই ৩ শিক্ষার্থী কক্সবাজারে উদ্ধার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

টিকটক ও ফ্রি ফায়ার গেমের মাধ্যমে পরিচয় ও যোগাযোগের সূত্র ধরে বাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ হওয়া মুন্সীগঞ্জের তিন শিক্ষার্থীকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া তিন শিক্ষার্থীর বয়স ১৪ বছর। তারা মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং অন্যজন সপ্তম শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রী।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৪ অক্টোবর ভোরে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। তাদের মধ্যে দুজন শ্রীনগর উপজেলার উত্তর বালাসুর এলাকার হরেন্দ্রনাথ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। অন্যজন ভাগ্যকূল এলাকার দারুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। নিখোঁজের পরদিন তাদের একজনের মা শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, টিকটক ও ফ্রি ফায়ার গেমের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ হয়। সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই তারা বাড়ি ছাড়ে। পরে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, তিন শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে গেছে।

এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সেখানে নিজেদের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে এবং মিরপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে তিন দিনের জন্য ২০ হাজার টাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল তারা। কক্ষ ভাড়া নিতে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক তাদের সহযোগিতা করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও কিছু টাকা নিয়ে যায়। অন্যজন বাড়িতে রাখা ৫২ হাজার টাকা, সোনার কানের দুল ও গলার চেইন নিয়ে যায়। আর মাদ্রাসাছাত্রীটি তার মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা ২৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়ে।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা পারিবারিক অশান্তি, বাবা-মায়ের মধ্যে মনোমালিন্য, কঠোর অনুশাসন, নিয়মিত অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং স্বাধীনতাহীন জীবনযাপনের অভিযোগ তুলে ধরে। এসব কারণে মানসিকভাবে অতিষ্ঠ হয়ে তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানায়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি এবং সেখান থেকে তৈরি হওয়া কল্পনাপ্রবণতাও তাদের এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা।

উদ্ধারের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত