গজারিয়ায় সড়ক সংস্কারে জনমনে স্বস্তি

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় দীর্ঘদিনের ভাঙন আর দুর্ভোগ কাটিয়ে নতুন রূপ ফিরে পেয়েছে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সম্প্রতি ওই সড়কের নদী/খাল সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক অংশ সংস্কার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

জানা যায়, উপজেলা গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাও-বালুরচর ভায়া নয়ানগর সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরা ছিল। নদী ও খালের একপাশের বড় একটি অংশ ভেঙে নদীতে ধসে পড়েছিল। সাময়িকভাবে সেখানে বস্তা ফেলে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। এতে স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করতেন।

জনদুর্ভোগ নিরসনে সম্প্রতি সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করে এলজিইডি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পল্লী সড়ক ও মেরামত কর্মসূচীর আওতায় ২২,৬২,১৪৩/(বাইশ লাখ বাষট্টি হাজার একশত তেতাল্লিশ টাকা) ব্যয়ে সড়কের ২০০ মিটার ভাঙা অংশ পুনর্নির্মাণ ও নতুন করে ঢালাইয়ের পাশাপাশি নদীর পার ধরে লাল-সাদা রঙের নিরাপত্তামূলক গার্ড পোস্ট (খুঁটি) বসানো হয়েছে। এর ফলে রাতে ও দিনে উভয় সময়ে যানবাহনের চলাচল সুরক্ষিত হয়েছে।

নতুন সংস্কার করা সুগম সড়ক দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির বেহাল দশার কারণে যাতায়াতে বহু ভোগান্তি পোহাতে হতো, এখন সড়কটির স্থায়ী সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।

স্থানীয়  নয়ানগর পঞ্চায়েত পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী অজিত দাস বলেন,পূজার আগে সড়কের সংস্কার হওয়ায় আমরা অনেক আনন্দিত। পূজা উপলক্ষ্যে আমাদের এলাকায় অনেক আত্নীয় স্বজনদের সমাগম হয়। মন্দিরের নিরাপত্তায় অনেক প্রশাসনিক লোকজন যাতায়াত করে এই মুহূর্তে সংস্কার শেষ হওয়ায় মানুষের দূর্ভোগ লাঘব হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মামুন রাঢ়ী বলেন, দীর্ঘ দিনের দূর্ভোগ লাঘব হয়েছে মানুষ এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। নিয়মিত তদারকি ও সড়কটির গুণগত মান বজায় রাখলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই এলাকার মানুষ যোগাযোগের সুফল পাবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরফিন বলেন,এই রাস্তাটি নয়ানগর যাওয়ার পথে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা,এ এলাকার একমাত্র পূজামন্ডপও এই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বেহাল হবার পর জনগণের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে এলজিইডি জেলা অফিস থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে এই রাস্তার ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যে টেন্ডার আহবান করা হয়। জুন মাসে কাজটি সম্পন্ন করা হয়।খালের পার ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় রাস্তাটির বাম পাশের খাল সংলগ্ন ৭০ মিটার ওয়ার মেশ দিয়ে ঢালাই করা হয়।আশা করি রাস্তাটির এই অংশ দীর্ঘস্থায়ী হবে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত