প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক বিরল এবং অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়লেন মিজোরামের ২৯ বছর বয়সী ব্যাটার চিন্ময় সুতার। সোভিমায় নাগাল্যান্ডের রনজি ট্রফি প্লেট লিগের এক ম্যাচে অপরাজিত ৪০০ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংস খেলেছেন তিনি। এর মাধ্যমে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে কোয়াড্রপল সেঞ্চুরি (৪০০ বা তার বেশি রান) হাঁকানো মাত্র দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন চিন্ময়। ক্রিকেট বিশ্বে এটা ১২তম চার শতাধিক রানের ইনিংস
নিজের ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণির ম্যাচেই এই কীর্তি গড়লেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে রনজি ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের তালিকায় পৃথ্বী শ-র ৩৭১ রানের রেকর্ড ভেঙে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরের মালিক এখন চিন্ময়। রনজির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটি এখনো ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের হয়ে কাঠিয়াওয়ারের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৪৪৩ রান করা বি বি নিম্বালকরের দখলে। নিম্বালকরের সেই রেকর্ড থেকে মাত্র ৪৩ রান দূরে ছিলেন চিন্ময়।
আজ দ্বিতীয় দিনের চা পানের বিরতির সময় ৩৯২ রানে অপরাজিত থাকা চিন্ময় ১৫৫তম ওভারে ঐতিহাসিক ৪০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছান। এরপর মিজোরাম তাদের ইনিংস ৫৯১ রানে ৯ উইকেটে ঘোষণা করে।
এই ঐতিহাসিক ইনিংসে চিন্ময়কে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন লালরিমপুনিয়া ছাকছুয়াক। শেষ উইকেটে এই দুজন অবিচ্ছিন্ন ১৯০ রানের জুটি গড়েন। রনজি ট্রফির ইতিহাসে শেষ উইকেটে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। এই তালিকার সর্বকালের সেরা রেকর্ডটি ১৯৯১-৯২ মৌসুমে মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে দিল্লির অজয় শর্মা (২৫৯) ও মনিন্দর সিংয়ের (৭৮) গড়া ২৩৩ রানের জুটির দখলে।
স্থানীয় লিগে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে চলতি বছরের শুরুতে বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বাই দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন চিন্ময় সুতার। গত জুন মাসে মুম্বাই টি-টোয়েন্টি লিগে এমএসসি মারাঠা রয়্যালসকে শিরোপা রক্ষায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। টুর্নামেন্টে ব্যাক-টু-ব্যাক ফিফটিসহ ৬ ইনিংসে ১২০ স্ট্রাইক রেটে মোট ২১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন এই ব্যাটার।
২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে মিজোরামে পাড়ি জমান চিন্ময়। গত সপ্তাহে মণিপুরের বিপক্ষে মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচেই মিজোরামের হয়ে ফার্স্ট ক্লাসে অভিষেক হয় তাঁর। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৯ রান করে নজড় কেড়েছিলেন তিনি। যদিও ম্যাচটি ৩ উইকেটে হেরে গিয়েছিল মিজোরাম, তবে চিন্ময়ের লড়াই দলকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়েছিল।