তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির চুক্তির মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত

তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সম্মতির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। 

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংক- সোনালী, জনতা ও রূপালীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছেন সোনালী ব্যাংকের মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের মো. মজিবর রহমান এবং রূপালী ব্যাংকের কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সম্মতির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তবে সরকারের সম্মতি এবং নিয়োগ বাতিলের চূড়ান্ত আদেশ জারি এক বিষয় নয়।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তিনজনেরই ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু ১৯৯৮ সালে রূপালী ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন শাখা, বিভাগ ও প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের পর তারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পদে নিয়োগ পান। 

মো. শওকত আলী খান ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রূপালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৮ সালে রূপালী ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। মানবসম্পদ, শিল্পঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ট্রেজারি, আইন, কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ এবং আন্তর্জাতিক বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন শওকত আলী খান।

মো. মজিবর রহমান ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে রূপালী ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক, জোনাল প্রধান, বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ও কৃষি উৎপাদন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মজিবর রহমান। তিনি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের ফেলো ও ডিস্টিংগুইশড ফেলো।

কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর তাকে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

১৯৯৮ সালে রূপালী ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক, জোনাল প্রধান ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বিভাগ, ট্রেজারি, নিরীক্ষা ও পরিদর্শনসহ বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেছেন তিনি।

সোনালী ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বৈদেশিক মুদ্রা, বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়ন, শিল্পঋণ, ক্ষুদ্রঋণ, ব্যবসা উন্নয়ন ও ঋণ আদায় কার্যক্রমেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে স্নাতক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যবসায় প্রশাসনেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে তার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত