পরিচিত ব্যক্তির পরিচয়ে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘জিনের বাদশা’ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মোহাম্মদ রাজিব (২৮) ও মো. সুমন (২৬)। তারা দুজনই ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা রশিদুলের সঙ্গে চাল বিক্রির কথা বলে যোগাযোগ করে প্রতারক চক্রটি। পরে বিজয় বাবু নামের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে পরিচিত ব্যক্তি সেজে রশিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় তাকে সুলভ মূল্যে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখানো হয়। একপর্যায়ে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে অলৌকিক ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে রশিদুল ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হয়ে তিনি ওই বছরের ২১ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে প্রায় আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। পরে বাদীর নারাজির পর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই ফরিদপুরকে নির্দেশ দেন। ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পিবিআই সদর দপ্তরের স্মারকের মাধ্যমে মামলাটি ফরিদপুর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজিদুল হক খান।
পিবিআই জানায়, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও অর্থ লেনদেনের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন তদন্তপদ্ধতি প্রয়োগ করে চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সোমবার দুপুরে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জের হাট বাজারের আশপাশ থেকে রাজিব ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটির সদস্যরা ভুয়া পরিচয়ে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতারণা করতেন। একবার ব্যবহারের পর প্রতারণায় ব্যবহৃত সিম ফেলে দেওয়াও ছিল তাদের কৌশল।
কখনো ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে গভীর রাতে, বিশেষ করে নারীদের ফোন করে ভয়ভীতি দেখাতেন তারা। মোবাইল ফোনের পাশে অদ্ভুত শব্দ করে ভুক্তভোগীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হতো। এরপর মূল্যবান জিনিসপত্র হারানো কিংবা জীবনের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখিয়ে বিপদ থেকে মুক্তির আশ্বাস দেওয়া হতো। এভাবে ভয় ও অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তান্ত্রিক ও স্বনামধন্য কবিরাজ পরিচয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে কঠিন ও গোপন রোগের চিকিৎসা, প্রেমে সফলতা এবং দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখানো হতো।