অস্ট্রেলিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে আসার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে একটি সমষ্টিগত মামলা (ক্লাস অ্যাকশন) হয়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে করা এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্ল্যাটফর্ম দুটির আসক্তি সৃষ্টিকারী নকশা শিশু ও কিশোরদের ক্ষতির কারণ হচ্ছে। খবর বিবিসির। 

আইনজীবী প্রতিষ্ঠান মিন্টারএলিসন বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বর্তমান ও সাবেক ব্যবহারকারীদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্ম দুটি ব্যবহারের ফলে তাঁরা ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে এসেছেন অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

মিন্টারএলিসনের অংশীদার উইলিয়াম নোলান বিবৃতিতে বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার শিশু-কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং এসব প্ল্যাটফর্মের নকশা ও পরিচালনাপদ্ধতি নিয়ে এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। এখন ফেডারেল কোর্টের প্রক্রিয়ায় এসব প্রশ্নের বিচার হবে।' 

আটজন বাদীর পক্ষে মামলাটি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই মেটার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কারণে তাঁরা ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

তবে গত সোমবার আদালতের এক নিষেধাজ্ঞার কারণে বাদীদের পরিচয় প্রকাশ করতে পারে—এমন কোনো তথ্য এবং মামলার আরজির বিবরণ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

মেটার এক মুখপাত্র বলেছেন, 'আমরা এই মামলার বিষয়ে অবগত এবং এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে আইনি লড়াই চালাব।' 

মামলার অর্থায়ন করছে লিটিগেশন লেন্ডিং সার্ভিসেস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বাস্তবসম্মত আর্থিক সামর্থ্য যেসব অস্ট্রেলীয় পরিবারের নেই, তাদের সহায়তা করতেই তারা মামলাটিতে অর্থ জোগাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থায়ন না থাকলে অনেক পরিবারের পক্ষে মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতো।

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মামলাটি করা হলো। ২০২৫ সালে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বে প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে দেশটি। এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা যেন নিজেদের ফিডে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্ধারিত কনটেন্ট দেখানো বন্ধ করতে পারেন, সে সুযোগ তৈরির জন্য নতুন নিয়ম প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনও বেড়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত