ব্যাংকিং খাতের আমানত ও বিনিয়োগের এক-চতুর্থাংশ ইসলামী ব্যাংকে

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট আমানত ও বিনিয়োগের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইসলামী ব্যাংকগুলোর। এ খাতের মোট আমানতের বড় অংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। আর ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে অনুমোদিত বিনিয়োগের বড় অংশ যায় শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানতের ৪৮ শতাংশ এবং প্রবাসী আয়ের ২১ শতাংশ আসে ইসলামী ব্যাংকিং চ্যানেলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রবাসী আয় এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের বড় অংশ সংগ্রহ করা হয় মুদারাবা পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে আমানতকারীরা ব্যাংকের সঙ্গে মুনাফা ভাগাভাগির ভিত্তিতে অর্থ জমা রাখেন। বিভিন্ন খাতের মধ্যে বেসরকারি খাত থেকে সবচেয়ে বেশি আমানত সংগ্রহ করে ইসলামী ব্যাংকগুলো।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের মোট বিনিয়োগের প্রায় ২৫ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকগুলোর। এর মধ্যে প্রায় ৮৯ শতাংশ বিনিয়োগ অনুমোদন করে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলো। বাকি ১১ শতাংশ আসে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামী শাখা ও উইন্ডো থেকে।

ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের বড় অংশ যায় শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ইসলামী ব্যাংকিং বিনিয়োগের প্রায় ৪২ শতাংশ হয় বাই-মুরাবাহা পদ্ধতিতে। এ ছাড়া শিল্প খাতে প্রায় ৪১ শতাংশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে ৩১ শতাংশ বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে।

বাই-মুরাবাহা হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ব্যাংক গ্রাহকের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নির্ধারিত মুনাফা যোগ করে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। কিস্তিতে বা নির্ধারিত সময়ে এ অর্থ পরিশোধ করেন গ্রাহক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানত সংগ্রহেও ইসলামী ব্যাংকগুলোর বড় অবদান রয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানতের প্রায় ৪৮ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকগুলোর। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত প্রতি ১০০ টাকা আমানতের প্রায় ৪৮ টাকা আসে ইসলামী ব্যাংক থেকে।

এ ছাড়া দেশে আসা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ২১ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসে। এজেন্ট ব্যাংকিং, স্কুল ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ও ই-কমার্সের মতো কার্যক্রমেও এ খাত যুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। শরিয়াহভিত্তিক লেনদেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় এ খাতের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামী ধারার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও সম্পদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত করা সহজ হবে। এতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ার পাশাপাশি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাও শক্তিশালী হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত