মোংলায় গাড়ি থামিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

দিনব্যাপী সরকারি সফর শেষে বাগেরহাটের মোংলা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে মোংলার হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ফেরার পথে সড়কের পাশে অপেক্ষায় থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গাড়িবহর থামিয়ে হাত মেলান ও কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করেন তারেক রহমান। প্রথমে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের স্থান আকাশপথে পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর মোংলায় পৌঁছে বন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন।

সফর শেষে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গাড়িবহর থামিয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে হাত মেলান ও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় বাসিন্দারা তাদের বিভিন্ন দাবির কথাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। 

এর আগে দুপুরে মোংলার দিগরাজে অবস্থিত নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে খুলনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

পরে বিকেলে মোংলা বন্দরের মূল জেটি এলাকা পরিদর্শন করেন তারেক রহমান। সেখানে পণ্য খালাস কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বন্দরের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এরপর বেজার প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি।

এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর। সফরকালে কোনো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ কিংবা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেননি তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আশা, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মোংলাকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে দিনভর মোংলা বন্দর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যার আগেই মোংলা ত্যাগ করেন তিনি।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত