জামায়াত-আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে এবং তা প্রমাণিত বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘গুপ্ত আর পরাজিত শক্তির আচরণ একই। জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সম্পর্ক আছে—প্রমাণ আছে বলেই এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন রিজভী।

বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আগে অপপ্রচার চালাত, এখন তাদের সঙ্গে আরেকটি গুপ্ত দল যুক্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়ে ওই দলের বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় দুই পক্ষের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে। পরাজিত শক্তির সঙ্গে দলটির আচরণেও মিল রয়েছে।’

বিএনপির বিরুদ্ধে অতীতে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততা এবং ক্ষমতায় গেলে অন্য ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার প্রচার চালানো হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেখিয়েছে, সরকার সতর্ক থাকলে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে না।

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, গত ১৭–১৮ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পূজার পরিবেশের প্রশংসা করেছেন।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার ও দলের পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি লিফলেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। তার মতে, এসব লিফলেট অনেকটা ব্যবস্থাপত্রের মতো প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ এবং দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।’

সরকারের অর্থনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে তার বক্তব্য, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড বিতরণের ফলে চলতি বছরেই দেশে দারিদ্রের হার আরও ৫ শতাংশ কমতে পারে।

এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক বাবুল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত