চাঁদা না দেওয়ায় আফ্রিকায় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

গত বুধবার রাত ১০টার দিকে দেশটির কেপটাউনের বুস্টার এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন উপজেলার সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মারুফের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।

ডামুড্যা থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়েছেন তিনি। আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

নিহত মারুফ বেপারি উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার প্রয়াত আব্দুস সোবহান বেপারির ছেলে। তার তিন সন্তান রয়েছে।

স্বজনরা জানান, ১৪ বছর আগে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান মারুফ। সেখানে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে বুস্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি গোষ্ঠী নিয়মিত তার কাছ থেকে প্রতিমাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড (প্রায় ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি) চাঁদা দাবি করত।

সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে মারুফের বিরোধ বাধে। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় প্রবাসীদের।

মারুফের ভাইয়ের ছেলে কামরুজ্জামান বেপারি কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘আফ্রিকার ওই এলাকায় ব্যবসা করলে স্থানীয় চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ র‍্যান্ড (স্থানীয় মুদ্রা) দিতে হয়। আমার কাকা তিন মাসের মধ্যে এক মাস দোকান চালিয়েছেন, বাকি দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন।’

কামরুজ্জামান বেপারি আরও জানান, ‘চাঁদা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর লোকজন চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তার কাকাকে গুলি করে।’

তাদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তার মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।

প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে যায়, তারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তারা সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠায়। তাদের নিরাপত্তা দেওয়াটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

ডামুড্যা থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনার বিষয়ে স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মৃতদেহটি বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রাখা আছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত