সাজেকে সংঘাত: কাল দুই পার্বত্য জেলায় সড়ক-নৌপথ অবরোধ

বারবার অবরোধ, গোলাগুলি ও পর্যটকদের আটকে পড়ার ঘটনার পর বর্তমানে পুরো সাজেক পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে।
 
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে সংঘাতময় পরিস্থিতির জেরে আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। 

সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, লাঠিচার্জ ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে এই আধাবেলা অবরোধ ডাকা হয়েছে।’
 
বিভিন্ন দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। দুর্গোৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন স্থগিত থাকার পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে পুনরায় শুরু হওয়া অবরোধকে কেন্দ্র করে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়।

বৃহস্পতিবারের সংঘাত নিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও ইউপিডিএফের তরফ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। আইএসপিআর বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গঙ্গারাম বাজার এলাকায় স্থানীয়দের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেয়।
 
অন্যদিকে এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করেছে ইউপিডিএফ। সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা পৃথক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, সাজেকবাসীর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বানচাল করতেই নিরাপত্তা বাহিনী একতরফাভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালিয়েছে।
 
এদিকে, আমাদের রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, বারবার অবরোধ, গোলাগুলি ও পর্যটকদের আটকে পড়ার ঘটনার পর বর্তমানে পুরো সাজেক পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে।
 
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, সাজেকের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও শুক্রবার সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।
 
আকস্মিক এই অচলাবস্থায় সাজেকের রিসোর্ট-কটেজ মালিক, জিপচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত