৮০ তম জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা:

‘সৈয়দ আবুল মকসুদ মানুষকে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন’

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

বহুমাত্রিক লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সৈয়দ আবুল মকসুদের সাধনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সৈয়দ আবুল মকসুদ স্মৃতি সংসদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে লেখক, গবেষক, পরিবেশকর্মী, কবি, সাংবাদিক ও আইনজীবীরা তাঁর জীবন, কর্ম ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচকেরা বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রতিটি বিষয়ে গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্যের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করতেন। তাঁর লেখনী ও চিন্তাচর্চা মানুষকে ভাবতে শিখিয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা সমস্যা নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

লেখক ও গবেষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখালেখি ও গবেষণা ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার ও শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। তথ্যের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে অনুসন্ধান করতেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতি গঠন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জনগণের সংগ্রাম এবং মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্ব নিয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ। অসাম্প্রদায়িকতা, মানুষের অধিকার ও মৌলবাদের বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন ও কর্ম তুলে ধরতে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন ফিরোজ আহমেদ।

পরিবেশকর্মী আবু নাসের বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সমস্যার সমাধানের পথ নিয়েও চিন্তা করতেন। নদী রক্ষা, যানজট নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পার্ক ও মাঠ উদ্ধারের আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ধর্মান্ধতা ও রাজনৈতিক ধর্মবিশ্বাসের বিরোধী এই লেখক সরকার পরিবর্তনের চেয়ে ব্যবস্থার পরিবর্তনে বিশ্বাসী ছিলেন।

কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ মানুষকে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন। তাঁর সামাজিক ভূমিকা ও আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হলেও তিনি কী লিখেছেন এবং কী রেখে গেছেন, তা পড়া, অনুধাবন করা ও গবেষণা করা জরুরি।

তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী, নবাব সলিমুল্লাহ, মহাত্মা গান্ধী থেকে খাইরুন নেসা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল সৈয়দ আবুল মকসুদের গবেষণা ও চিন্তার জগৎ। সমাজের মুক্তির পথ খুঁজতে প্রয়োজনীয় সাধনার কাজটিই তিনি করে গেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আরিফ খান বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ কেবল একজন কলামিস্ট ছিলেন না; নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সারা দেশ ঘুরেছেন। নিজের জীবন, পরিবার ও পেশাগত জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণাধর্মী ও প্রামাণ্য গ্রন্থগুলোও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত