মাদক নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান মন্ত্রীর

শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, মাদক নির্মূলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন হয় না। কোনো না কোনোভাবে মিয়ানমার থেকে দেশে মাদক প্রবেশ করে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এককভাবে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে বিশেষ অনুদান ও হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, মাদক বিক্রি ও আদান-প্রদানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে পাশে দাঁড়ালে প্রশাসনের মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে।

শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক শিশু অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যায় পড়ে। অর্থের অভাবে কোনো মানুষের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে, বর্তমান সরকার তা বিশ্বাস করে না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য ও নির্বাচনী অঙ্গীকারেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

সমাজের অসহায় ও অবহেলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ক্যান্সার, কিডনি ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরকার প্রতি রোগীর বিপরীতে এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ অনুদান ও সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

টেকনাফ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪৬ জন সদস্যকে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে মোট ৯২ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধার্থে বিতরণ করা হয়েছে পাঁচটি হুইলচেয়ার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, অসহায় শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, সরকারি সহায়তার সুফল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে টেকনাফ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৯০০ জন গর্ভবতী নারীকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাহি নেওয়াজ, টেকনাফ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. হাবিবা জাহান, সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত