উজিরপুর

চার ঘণ্টায় ৯ আসামি গ্রেপ্তার, প্রশংসিত ৩ পুলিশ কর্মকর্তা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

বরিশালের উজিরপুরে যুবদল নেতা কাওসারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চার ঘণ্টার মধ্যে অভিযানে নেমে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দ্রুত এ অভিযান পরিচালনা করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন উজিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সৌমেন কুমার বাইন, উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম ও ওসি (তদন্ত) ফারুক আহমেদ।

গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে উজিরপুর মডেল থানার সামনে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশ। তবে অভিযানের নেপথ্যে থাকা তিন পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্ব, তৎপরতা ও দক্ষতার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে সাতলায় যুবদল নেতা কাওসারকে কুপিয়ে হত্যার পর একটি মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। খবর পাওয়ার পরই তিন পুলিশ কর্মকর্তা একটি দল নিয়ে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেন। হামলায় আহত ব্যক্তিদের একজনও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন।

একদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গোপালগঞ্জ হয়ে ভাটিয়াপাড়া দিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে পুলিশ মাদারীপুর হয়ে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার আগে অবস্থান নেয়। ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৮৭৫৬ নম্বরের মাইক্রোবাসটি টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে পুলিশ সেটি ঘিরে ফেলে। গাড়িতে টেলিভিশন চ্যানেলের পরিচয়পত্র লাগানো ছিল। গাড়ির গায়ে রক্তের দাগ দেখে পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরে হামলায় আহত ব্যক্তি গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করেন।

এরপর মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে রক্তমাখা কুড়াল, লোহার পাইপ ও রক্তের দাগযুক্ত ধারালো ছোড়া উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন উজিরপুর উপজেলার আলামদী গ্রামের ফরিদ মোল্লার ছেলে সজল মোল্লা ও শামীম মোল্লা, একই উপজেলার মোবারক মোল্লার ছেলে তরিকুল ইসলাম, মুলাদী উপজেলার দড়িচর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে সোহাগ, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার জাহিদ শেখের ছেলে সাগর শেখ, গোপালগঞ্জের ভুমদিয়া গ্রামের হাচান শেখের ছেলে হাসিব শেখ ও হাবিব শেখ, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মানিকখালী গ্রামের মালেক হাওলাদারের ছেলে মাহাবুবুর রহমান এবং ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের লোকমান হাকিমের ছেলে শরীফ হোসেন।

রাতভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ সদস্যরা বরিশালের দিকে ফিরে আসেন। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া তিন কর্মকর্তার তৎপরতা ও দক্ষতা স্থানীয় মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত