উজিরপুরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, পালানোর সময় গ্রেপ্তার ৯

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সকালে বাক্‌বিতণ্ডা। ঢাকা থেকে ভাড়াটে কিলার নিয়ে রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক যুবদল নেতাকে। খুনিদের বহনকারী মাইক্রোবাসে লাগানো হয় সময় টেলিভিশনের স্টিকার। হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীরা ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৮৭৫৬ নম্বরের মাইক্রোবাস নিয়ে দ্রুত ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এ যেন সিনেমার গল্পের মতো। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত কাওসার হাওলাদার (৩৭) পেশায় একজন মোটরবাইকচালক ও সাতলা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। তিনি উজিরপুর উপজেলার সাতলার আলামদী গ্রামের মেনাসেফ হাওলাদারের ছেলে এবং চার সন্তানের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাক্‌বিতণ্ডা ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে যুবদল নেতা কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে।

২৪ অক্টোবর শনিবার দুপুর ২টায় উজিরপুর মডেল থানায় পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা কাওসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত থেকে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী নিহত কাওসারের চাচাতো ভাই ও সাতলা ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাসেদ আমিন বলেন, শুক্রবার সকালে সাতলার একতা বাজারে কাওসারের সঙ্গে নান্নু মোল্লার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর তাঁরা মামলা করার চেষ্টা করেন। মিথ্যা মামলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় কাওসারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাক্‌বিতণ্ডার পর হাতাহাতি হয়।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাসেদ আমিন ও কাওসারসহ চার-পাঁচজন সাতলা সেতুর ওপর আড্ডা দেওয়ার সময় একদল অস্ত্রধারী একটি মাইক্রোবাস ও মোটরবাইক নিয়ে তাঁদের ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে মাইক্রোবাসের মধ্যে থাকা সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, মেহেদী মোল্লা, কাঞ্চন মোল্লা, সাইফুল বালীসহ আট-দশজন সন্ত্রাসী মাইক্রোবাস থেকে বেরিয়ে এলোপাতাড়ি সবাইকে মারধর শুরু করেন।

এ সময় দুর্বৃত্তরা কাওসারকে কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হয়ে কাওসার প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের বাড়ির হাবিব হাওলাদারের ঘরে আশ্রয় নেন। কাওসার প্রাণ বাঁচাতে নানা কায়দায় আকুতি জানান। সন্ত্রাসীরা ওই বাড়িতে হানা দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কাওসারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয়রা কাওসারকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কাওসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ উজিরপুর উপজেলার আলামদী গ্রামের ফরিদ মোল্লার ছেলে সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, মোবারক মোল্লার ছেলে তরিকুল ইসলাম, মুলাদী থানার দড়িচর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে সোহাগ, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার জাহিদ শেখের ছেলে সাগর শেখ, গোপালগঞ্জের ভুমদিয়া গ্রামের হাচান শেখের ছেলে হাসিব শেখ ও হাবিব শেখ, বরগুনা জেলার পাথরঘাটার মানিকখালী গ্রামের মালেক হাওলাদারের ছেলে মাহাবুবুর রহমান এবং ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার বাটামারা গ্রামের লোকমান হাকিমের ছেলে শরীফ হোসেন নামের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম কাওসার হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (উজিরপুর সার্কেল) সৌমেন কুমার বাইন জানিয়েছেন, কাওসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কাওসারের মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত