জিয়া-খালেদা-তারেকের জাপান সফর ঘিরে অর্থনৈতিক গুরুত্ব

  •  জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সফর দুইবার, তারেক রহমানের প্রথম 
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে দুইবার করে জাপান সফর করেছিলেন। তবে তাদের বড় ছেলে এবং বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর প্রথমবারের মতো জাপান সফরে যাচ্ছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে দুইবার জাপান সফর করেছিলেন।

তার প্রথম সফর ছিল ১৯৭৮ সালে। ১৯৭৮ সালের এপ্রিল মাসে তিনি জাপান সফর করেন। এই সফরে তিনি জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাকেও ফুকোদার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সম্রাট হিরোহিতোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দ্বিতীয় সফর ছিল ১৯৮০ সালে। ১৯৮০ সালের ৮ জুলাই তিনি পুনরায় জাপান সফর করেন।

এই দুই সফরের তাৎপর্য ও অর্জন ছিল। এই সফরগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হয়। ১৯৮০ সালের সফরে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল চুক্তি (এয়ার সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরিত হয় এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রথম যৌথ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন, প্রয়াত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মোট দুইবার জাপান সফর করেছিলেন। এর মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় সফর হয় ২০০৫ সালের ১২ থেকে ১৫ জুলাই। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৪ সালেও একবার জাপান সফর করেছিলেন। ২০০৫ সালের সফরে তিনি জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

ওই সফরে ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল ব্যবস্থা চালু, পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে জাইকার সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাপান সরকার ও জাপানের রাষ্ট্রদূত গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। খালেদা জিয়ার প্রথম জাপান সফরে তাঁর অন্তত ১২ জন সফরসঙ্গীকে রাজকীয় প্রাসাদে রাখা হয়েছিল। পরেরবার ইমপেরিয়াল হোটেলে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া।

 

১২ জুলাই ২০০৫ খালেদা জিয়ার জাপান সফরে জাপানের টোকিও শহরের তোশিমা সিটির ইকেবুকুরো পশ্চিম উদ্যান শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে দেশের বাইরে এটিই প্রথম শহীদ মিনার। ৩০ হাজার ডলার ব্যয়ে বাংলাদেশ সরকার এই মিনারটি হামিদুর রহমানের মূল নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করে। লন্ডনে একটি শহীদ মিনার রয়েছে। তবে সেটি প্রবাসীদের অর্থায়নে নির্মিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান সফর করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে যাচ্ছেন। সফরসঙ্গী হচ্ছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। তার চিবার এলএনজি টার্মিনাল ও পাওয়ার প্ল্যান্ট, একটি পারমাণবিক সদর দপ্তর এবং নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের সূচি রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্য থেকে ৪–৫টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং হালনাগাদকৃত 'মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক' (এফওআইপি) কৌশল বাস্তবায়নে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে।

ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ১১ ফেব্রুয়ারি কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এই দিন জাপান বাংলাদেশে দূতাবাস খোলে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত