মাংস কীভাবে খাবেন

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ এএম

শীতের সময় অনেকেরই মাংস খাওয়া বেড়ে যায়। আর হৃদরোগ হওয়ার বড় কারণ চর্বিযুক্ত খাবার। মাংসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে। তাই হৃদরোগীদের মাংস খেতে নিষেধ করা হয়। যদি আপনি হৃদরোগে ভোগেন, তবে মাংস খেতে পারবেন না, এটা অনেকের জন্য মনঃপীড়ার কারণ হয়। আবার যদি বলা হয় হ্যাঁ, আপনি মাংস খেতে পারবেন, তাহলে আপনি কিছু ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন।

তবে মাংসের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান  চর্বি সরিয়ে দিতে পারলে হৃদরোগীদের মাংস খেতে আপত্তি থাকার কারণ নেই।

মাংস রান্নার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে রান্না করা হলে সীমিত পরিমাণে (কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকলে) মাংস খাওয়া যেতে পারে, রান্নার জন্য মাংসের যেসব অংশে চর্বি দৃশ্যমান নয়, সে সব অংশ (Lean meat) বাছাই করে, দৃশ্যমান চর্বি কেটে বাদ দিতে হবে।

আরও যা করতে হবে

মাংসের মধ্যে প্রয়োজনীয় মসলাদি মেখে মেরিনেটের জন্য কিছু সময় রেখে দিতে হবে। পরে ননস্টিক ফ্রাইপ্যানে ভালোভাবে সেঁকে তেল ছাড়া রান্না করে নিতে হবে। 

এছাড়া গ্রিল করে মাংস খাওয়া যেতে পারে। প্রথমে মাংসকে আগুনে ঝলসে নিতে হবে, এতে মাংসের চর্বি ঝরে পড়ে যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় মসলা মাখিয়ে মাইক্রোওভেনে মাংস রান্না করে খাওয়া যাবে।

একটি গরম পানিভর্তি পাতিলের ওপর ছিদ্রযুক্ত পাত্র বসিয়ে তাতে মাংস দিয়ে বাষ্পের steam) মাধ্যমে সেদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় মসলা দিয়ে মাখিয়ে মাংস রান্না করে খাওয়া যাবে।

মাংসকে গরম পানিতে সেদ্ধ করে গরম অবস্থায় পানি ছেঁকে ফেলে দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় মসলা মাখিয়ে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। ওপরের যেকোনো পদ্ধতিতে রান্না করার পরও যদি তেল-চর্বি থাকে তাহলো আরও যা যা করতে হবে

চামচ দিয়ে তেল-চর্বি উঠিয়ে ফেলা।

বরফের টুকরা দিয়ে তেল-চর্বি উঠিয়ে ফেলা।

দৃশ্যমান তেল-চর্বি পাউরুটির টুকরা দিয়ে সরিয়ে ফেলা যায়।

রান্না করার পর এক রাত ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে ওপরে জমে থাকা তেল-চর্বি সরিয়ে ফেলা যায়।

কেন মাংস খাব

শরীরের গঠন, বৃদ্ধি সাধন এবং ক্ষয়পূরণ।

শরীরের উৎসেচক (Enzyme) এবং হরমোন তৈরিতে মাংসের প্রয়োজন।

স্বাদ ও অভ্যাস।

কেন মাংস খাব না

মাংসের ভেতর সবচেয়ে বেশি কোলেস্টেরল থাকে, যা থেকে বহুবিধ অসংক্রামক ব্যাধি যেমন উচ্চরক্ত চাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, ব্রেন স্ট্রোক, কোলোরেক্টাল ক্যানসার ইত্যাদি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যায়। শরীরে লবণের মাত্রা বাড়ে।

ডা. এম. এম রহমান

হার্ট স্পেশালিস্ট সিইও ও চিফ কনসালট্যান্ট মাতৃভূমি  হার্ট কেয়ার লিমিটেড

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত