অন্তঃসত্ত্বা নারীর ডেঙ্গু হলে

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ এএম

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীর অতিমাত্রায় বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামান্দ্য এবং চোখে ঝাপসা লাগার মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। গর্ভকালীন প্রথম তিন মাসে বমির কারণে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ সময় গর্ভবতী নারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অত্যধিক জ্বরে শরীরে আরও বেশি পানিশূন্যতা তৈরি হয় এবং রক্তচাপ কমে যায়। ফলে গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। গর্ভস্থ নারীর রোগ প্রতিরোধ শক্তি অন্যদের তুলনায় কমে যায়। জ¦র ও ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ খাওয়া যায় না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু গর্ভাবস্থার পরবর্তী পর্যায়ে অসুস্থ মায়ের কাছ থেকে সরাসরি প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে ভ্রুণকেও সংক্রমিত করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে

প্রি-একলাম্পসিয়া দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারও হয়। ডেঙ্গুর কারণে ভ্রুণের বৃদ্ধি কমে বা মৃত সন্তান প্রসব হতে পারে। ডেঙ্গু সময়ের আগে প্রসব বেদনা শুরু করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে সিজারিয়ান সেকশনের প্রয়োজন হয়। গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু মারাত্মক রূপ নিলে মায়ের জীবনও বিপন্ন হয়। শিশুর জন্মের পর রক্তক্ষরণের সমস্যা, ফুসফুসের ইনফেকশন ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

লক্ষণ

অনেক সময় ডেঙ্গুর কিছু উপসর্গ গর্ভাবস্থার উপসর্গের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় রোগ নির্ণয় করতে দেরি হয়। সাধারণত উচ্চমাত্রার জ¦র, পেটে ব্যথা, বদহজম, বমি ভাব, ডায়রিয়া, শরীর ব্যথা, জ¦র চার-পাঁচ দিন পর কমে যায়। কিন্তু জ¦র কমে যাওয়ার পরের সময়টাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া অন্যান্য জটিলতা যেমন প্রি-একলাম্পসিয়া বা একলাম্পসিয়া, নিউমোনিয়া এসব ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বাচ্চার নড়াচড়া কমে যেতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসার অভাবে মায়ের মৃত্যুও হতে পারে।

করণীয়

গর্ভবতীর ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করা দরকার। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা। ডাক্তাররা সাধারণত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে যদি হেমোরেজিক ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা যায়।

চিকিৎসা

গর্ভবতী নারীকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। রোগীর হাইড্রেশন ঠিক রাখতে হবে। জ¦র ও ব্যথানাশক হিসেবে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে। ভিটামিন সি ও ভিটামিন ডি নিতে হবে। প্রতিদিন রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ কতটা আছে তার জন্য রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত ও প্লাটিলেট দিতে হতে পারে। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মেডিসিন ও গাইনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হবে। গর্ভাবস্থার আগে বা পরে নির্ণয় হওয়া কোনো অসুখ থাকলে, সেসব অসুখের চিকিৎসা করাতে হবে।  বাচ্চার নড়াচড়া খেয়াল করতে হবে। দিনে ও রাতে মশারির মধ্যে ঘুমাতে হবে। নিয়মিত পানি পান করার পরও প্রস্রাবের মাত্রা কমে গেলেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন এবং গর্ভাবস্থায় রক্ত নেওয়া অনুচিত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত