১৯০২ সালের মে মাসে সেই কোপা দে লা করোনেশনের প্রথম দেখা থেকে শুরু করে ১২৪ বছর পেরিয়ে আজকের দিনটিতেও এই দ্বৈরথ ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রেক্ষাপট। স্প্যানিশ ফুটবলের চিরন্তন শিহরণ আর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের প্রতীক্ষিত ম্যাচ এল ক্লাসিকো। চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো আজ। যেখানে ক্যাম্প ন্যুতে সমতা ভাঙার লড়াইয়ে নামবে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ।
দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াইয়ের সামগ্রিক চিত্রটা একদম সমানে সমান। সর্বমোট ২৬৪টি ম্যাচ বার্সা ও রিয়াল দুই দলই জিতেছে সমান ১০৬টি করে ম্যাচ, আর ড্র হয়েছে ৫২টি ম্যাচে। যেখানে কাতালানদের ৪৩৮ গোলের জবাবে রিয়াল গোল করেছে ৪৪৭টি। আর কেবল লা লিগার ১৯২ ম্যাচের হিসাব কষলে অবশ্য ৮০ জয় নিয়ে সামান্য এগিয়ে রিয়াল, যেখানে বার্সার জয় ৭৭ এবং ড্র ৩৫টি।
তবে এটিকে সমতা ভাঙার লড়াই বা কেনই বলা যাচ্ছে? ম্যাচ তো ড্রও হতে পারে। হ্যাঁ, সেটার সম্ভাবনা তো আছেই। তবে সবশেষ ২১ এল ক্লাসিকোর ফল বলছে কিছুটা ভিন্ন কথা। সেখানে প্রতি ম্যাচেই এসেছে জয়ের ফল। সবশেষ ড্রর দেখা মিলেছিল প্রায় ৭ বছর আগে ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর। রিয়ালে তখন মাঠ মাতাতেন রামোস, বেনজেমা আর ক্রুসরা। আর বার্সায় তখনো ছিল মেসি-যুগ। তাই তো সবশেষ ২১ ম্যাচের মতো কোনো জয়টা এলেই বোধহয় কিছুদিনের জন্য মিটে যাবে হিসাব এল ক্লাসিকোর রাজা কারা!
চলতি মৌসুমে অবশ্য মাঠের লড়াইয়ে রাজা বনে আছে বার্সাই। গোলের ফুলঝুরিতে ফ্লিকের দল যেন এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবশ্য কাতালানরা নিজেদের সবশেষ ম্যাচটাতেই হেরেছে। পিএসজির কাছে ৪-২ ব্যবধানে। তবে লা লিগায় বার্সার দাপট পরিষ্কার। ৯ ম্যাচ শেষে রিয়ালের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে আছে। আর আজকের ম্যাচ জিতলে আসবে ৯ পয়েন্টের বড় ব্যবধান, যা শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে এগিয়ে রাখবে ইয়ামাল-রাফিনহাদের।
তবে এই রোমাঞ্চের মাঝেও পিএসজির কাছে সেই হারের তিক্ত অনুভূতি সঙ্গ দিচ্ছে বার্সাকে, যা নিয়ে প্যারিসের ম্যাচ শেষে কিছুটা চিন্তিতও দেখা গেছে ক্লাবের জার্মান কোচকে। উড়তে থাকা দলের প্রথম ধাক্কার পর এমন চিন্তা তো আসারই ছিল।
ফ্লিকের এই শঙ্কার বিপরীত চিত্র রিয়াল ড্রেসিংরুমে, যেখানে হোসে মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফেরার পর দলটি ধীরগতিতে শুরু করলেও সবশেষ চার ম্যাচের টানা জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। যদিও চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে দলের অন্যতম সেরা তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে আজ একাদশে পাচ্ছেন না মরিনহো, তবু পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ডের জমাট কৌশল আর এমবাপ্পের গোল করার ধারকে সম্বল করে ক্যাম্প ন্যু জয়ের ছক কষছেন লস ব্লাঙ্কোসরা। আর রিয়ালে ফেরার পর মরিনহোরও এটি প্রথম এল ক্লাসিকো।
তবে ক্লাসিকোর এই অগ্নিগর্ভ লড়াইয়ের আবহ আর প্রতিপক্ষের মাঠের চাপ সম্পর্কে বেজায় সচেতন রিয়াল মাদ্রিদ বস। ম্যাচের কৌশল নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে নিজের মূল্যায়ন জানাতে গিয়ে চিরচেনা মেজাজে মরিনহো মন্তব্য করেন, ‘এল ক্লাসিকো অন্যান্য যেকোনো সাধারণ ম্যাচের মতো নয়, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক লড়াই। এই ম্যাচে নামার আগে অতীত পারফরম্যান্স থেকে আসা আত্মবিশ্বাস বলে আসলে কিছু থাকে না। আর আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো এই ম্যাচের জন্য বার্সেলোনা আমাদের চেয়ে ২৪ ঘণ্টা বেশি বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছে। বিশ্রামের এ ঘাটতি বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।’
মরিনহোর সেই সাবধানী বাণীর বিপরীতে স্পেনের দুই জায়ান্ট ক্লাবের এই মহারণ আবার উসকে দিচ্ছে বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইকে। একসময় যা ছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮টি ক্লাসিকো খেলা সার্জিও বুসকেতস, ৪৫টি ম্যাচ খেলা সার্জিও রামোস ও লিওনেল মেসিদের রাজকীয় দ্বৈরথ, আজ তা মোড় নিচ্ছে ইয়ামাল-এমবাপ্পেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।