দ্রুত ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই না

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭ এএম

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় ও চতুর্থ রাউন্ডের মধ্যে এবার মাত্র দুদিন বিরতি ছিল। এই দুদিনে অন্যরা যখন বিশ্রামে, তখন খুলনা বিভাগের ব্যাটসম্যান কালাম সিদ্দিকী সিলেট থেকে ঢাকায় এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেন। এই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের আগমনী বার্তাই যেন দিয়ে রাখলেন এই তরুণ। ম্যাচ শেষ করে শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের বিমান ধরেন তিনি। যাত্রাপথে ক্লান্ত শরীর নিয়েও তরিকুল ইসলাম সজলের সঙ্গে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন

আপনার জীবনে এই দুদিনের বিশেষত্ব কেমন?

কালাম সিদ্দিকী : এটি ছিল নতুন ধরনের এক অভিজ্ঞতা। এটা আমার এখন পর্যন্ত ক্রিকেট জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করি। এমন মানসম্পন্ন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে খেলে নিজের সামর্থ্য যাচাই করার একটা সুযোগ পেয়েছি। আমার কাছে এটি এক ধরনের পরীক্ষা ছিল। আন্তর্জাতিক মানের বোলারদের বিপক্ষে খেলা ছিল নিজের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ।

বিসিবি একাদশের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবেন জানার পর মানসিক প্রস্তুতি কেমন ছিল? 

কালাম : বাড়তি বা আলাদা কোনো চিন্তা মাথায় ছিল না। কারণ, আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত চার দিনের ম্যাচ খেলছিলাম। একটা টুর্নামেন্টের মধ্যেই তো ছিলাম। ফলে খেলার যে মানসিকতা, সেটা একদম আগের মতোই ছিল। নতুন করে কিছুই বদলাতে হয়নি। আলাদা পরিকল্পনার মধ্যে ছিল শুধু ওদের বোলারদের চেনা। আর খেলাটা হয়েছিল বসুন্ধরার মাঠে। ওই উইকেট আমার আগে থেকেই পরিচিত ছিল। ওদের বোলারদের বিপক্ষে সরাসরি খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও টেলিভিশনে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে ওদের বল করতে দেখেছি। ফলে বাড়তি চাপ না নিয়ে স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চেয়েছি।

কোনো চাপ না নিয়েই সেঞ্চুরি করলেন। জেইডেন সিলস, শামার জোসেফদের মতো তারকা বোলারদের বিপক্ষে ব্যাট করতে একটুও স্নায়ু চাপে ভোগেননি বলছেন?

কালাম : ভয় বা স্নায়ুচাপ ঠিক নয়, শুরুতে একটু সতর্ক ছিলাম। কারণ ওপাশে যারা বল করছিলেন, তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিষ্ঠিত বোলার, তাদের বেশ নামডাক আছে। আমরা তাদের টেলিভিশনে বড় বড় ম্যাচ খেলতে দেখেছি। তাই শুরুতে একটু বাড়তি সাবধানতা ছিল। বাইরে থেকে অনেকেই হয়তো ভাবছেন আমি ওদের নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি। সত্যি বলতে, আলাদা করে অত বিশ্লেষণের সুযোগ ছিল না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওদের বোলিং যেভাবে দেখেছি, সেই ধারণা থেকেই খেলা। তবে আমাদের দলে জাকের (আলী) ভাই ছিলেন। তিনি ওদের বিপক্ষে খেলেছেন। তাই পেসারদের কিছু কৌশল নিয়ে আমাদের ভালো ধারণা দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন প্রতিষ্ঠিত বোলারদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এলেন। কিছুটা হলেও তারকাখ্যাতি টের পাচ্ছেন নিশ্চয়ই?

কালাম : সত্যি বলতে, অনেকে যেভাবে খুব দ্রুত নাম কুড়িয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হারিয়ে যায়, আমি তেমনটা হতে চাই না। রান পাচ্ছি, আমি চাই আস্তে-ধীরে নিজের মতো করে এগোতে। এত তাড়াতাড়ি কোনো বড় জায়গায় সুযোগ পাওয়ারও দরকার নেই। যদি সুযোগ আসে, সেখানে ভালো খেলার চেষ্টা করব। তবে হুট করে কোনো কিছু পেয়ে দ্রুত খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে চাই না। জাতীয় দলে সুযোগ পেতে যদি আমার পাঁচ-ছয় বছরও অপেক্ষা করতে হয়, আমি তাতেই খুশি। আমি এই ধাপে ধাপে উন্নতির প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সঙ্গে এই পর্যায়ের ক্রিকেটের পার্থক্যটা কতখানি? 

কালাম : আমি তো মাত্র এই একটা ম্যাচই খেললাম। সেটাও প্রস্তুতি ম্যাচ। তাই এখনই এই মঞ্চের পার্থক্যটা পুরোপুরি তুলে ধরার মতো জায়গায় আমি আসিনি। তবে একটা বিষয় দেখেছি, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সবার বয়সই কাছাকাছি থাকত। ফলে লড়াইটা হতো সমানে সমান। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে দুই ধরনের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারব।

জাতীয় ক্রিকেট লিগে বেশ ছন্দে আছেন। তবে দুবার নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে আউট হয়েছেন। এবারের মৌসুম নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন?

কালাম : একটা ব্যক্তিগত লক্ষ্য তো মনের ভেতর আছেই। তবে সেটা এখনই কাউকে বলতে চাই না। যে কয়টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব, আমার একমাত্র লক্ষ্য থাকবে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া। আমি নিজের জন্য এমন একটা মানদণ্ড দাঁড় করাতে চাই, যাতে আগামী মৌসুমগুলোতে ধীরে ধীরে নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত