দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সিঙ্গাপুর, কাতার ও জাপান থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো ও প্রয়োজনে অতিরিক্ত এলএনজি এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পৃথক বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ তাপীয় একক গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া বাজারদরের চেয়ে শূন্য দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার কম। প্রয়োজনে উভয়পক্ষের সম্মতিতে অতিরিক্ত কার্গো এলএনজিও কেনা যাবে। সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯-এর ২ বিধি অনুসরণ করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্য এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য প্রস্তাবিত এ কার্গোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ তাপীয় একক গ্যাসের জাপান-কোরিয়া বাজারদরের চেয়ে শূন্য দশমিক ১০ মার্কিন ডলার কম। একই দিনে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং জেরা গ্লোবাল মার্কেটসের মধ্যে চূড়ান্ত করা স্বল্পমেয়াদি এলএনজি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তি এবং শর্তপত্রের নির্ধারিত নমুনা সইয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।