স্বামীর বাসা থেকে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়াবাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শিক্ষার্থীর নাম ফারজানা ইসলাম। তিনি কুবির ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত শনিবার রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় স্বামীর বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ফারজানার পরিবার দাবি করেছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তার স্বামী। গত বছরের ডিসেম্বরে মারধরের শিকার হয়ে তিনি স্বামীর বাসা ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এ ঘটনায় নারী নির্যাতনের মামলা করেন তিনি। পরে নাজমুলের পরিবার ভবিষ্যতে নির্যাতন না করার আশ্বাস দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। দুই পক্ষের পারিবারিক সমঝোতার পর মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩ বছর আগে একই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থী নাজমুলের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফারজানাকে নির্যাতন করা হতো। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ফারজানার পরিবারের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরিফুলের ভাষ্য, নাজমুল প্রথমে বেকার ছিলেন। পরে চাকরি পাওয়ার পর তার অর্থের চাহিদা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অর্থের জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফারজানার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল বলে জানান আরিফুল। তখন তার কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। রাতে খাওয়ার জন্য ফারজানা চিপস ও কোমলপানীয়ও কিনেছিলেন। রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তাকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত