সৌন্দর্য ফিরছে রাজশাহীতে ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সবুজের সমারোহ আর পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য একসময় দেশজুড়ে পরিচিতি ছিল রাজশাহী শহরের। ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’খ্যাত এই নগরের সৌন্দর্য ছিল রাজশাহীবাসীর গর্ব। তবে গত কয়েক বছরে ফুটপাত দখল, সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা, যত্রতত্র ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে অনেকটাই মøান হয়েছে এর খ্যাতি। সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নগরের সৌন্দর্য ফেরাতে অভিযান চালিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরেও নেওয়া হয় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ। এতে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতের চেহারায় পরিবর্তন এসেছে। তবে সাময়িক এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি মাসে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন। সড়ক ও ফুটপাত থেকে সরানো হয় ব্যানার-ফেস্টুন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আইল্যান্ডে রঙ করা হয়। এসব উদ্যোগে নগরের আগের সৌন্দর্য ফিরেছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিক ও পথচারীরা।

রাজশাহী নগরীর ভদ্রা এলাকার বাস স্টপেজ অনেকটাই টার্মিনালে রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে অস্থায়ী দোকানের কারণে ফুটপাতগুলো ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়। গত মাসে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ স্থাপনা উঠিয়ে রেলিং বসিয়ে দেয়। এতে পথচারীদের চলাচল অনেক সহজ হয়। রাজশাহী মহিলা কলেজের সামনের অংশে গত কয়েক মাসে ঘিঞ্জি পরিবেশ তৈরি হয়। চলতি মাসের শুরুতে এই জঞ্জাল পরিষ্কার করে সিটি করপোরেশন। এই কার্যক্রম নগরবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়। পরবর্তিতে শহরে আরও কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে নিয়মিত তদারকির অভাব, ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র প্রচারসামগ্রী স্থাপনের কারণে নগরের বিভিন্ন স্থানে আবারও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সারা বছরই পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি নগরবাসীর।

রাজশাহীর স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল মনে করেন, নগরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে তা ধরে রাখতে হলে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আবার শুধু অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দিলেই স্থায়ী সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর আবারও যাতে একই জায়গা দখল না হয়, সেজন্য ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।

নগরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও সেই চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর বিভিন্ন স্থানে আবারও ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া অস্থায়ী দোকানপাটের কিছু অংশও পুনরায় ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করছে। ফলে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের সাম্প্রতিক উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প জায়গায় বসানোর ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তিনি নগরবাসীর সহয়োগিতা চান এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ : ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। এ জন্য রবিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারস্থ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন করেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় বলেন, মহানগরীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতকরণে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ভদ্রা, মহিলা কলেজ রোড ও মেডিক্যালের সামনের একাংশে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর, জিরোপয়েন্ট, সোনাদিঘি মোড়, রেলগেট, গণকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলে রয়েছে। এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করব। সেখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে। রাজশাহী মহানগরীকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করতে চাই। তিনি আরও বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে আমি বাধাগ্রস্ত হচ্ছি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি পাচ্ছি। তবে এসব হুমকিতে আমি ভীত নই। সাহেব বাজার কাঁচাবাজার ও মাছপট্টির দ্বিতীয় তলায় ৮৯টি দোকান অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত