আত্মগোপনে থেকে রুমি বললেন

পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুশিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর এবার শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, রুমি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। স্বজনরা জানান, রুমিকে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া তার নামে মামলা হওয়ায় তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

এদিকে সার্বিক বিষয় জানতে শাহজালাল রুমির সঙ্গে তার মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হলে তিনি জানান, তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আইনের প্রতি নিজেকে শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে তিনি সবার কাছে দোয়া চান।

অন্যদিকে তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনের নম্বরগুলোও লিক (জানাজানি) হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, আমরা দুটি মামলাই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কোনো কিছু প্রকাশ করছি না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিগগিরই তদন্তের ফল জানতে পারবেন।

মিষ্টি নিয়ে শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলেন সেই মাদ্রাসাশিক্ষক : এদিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশুকে শ্লীলতাহানি করা সেই শিক্ষক ঘটনার পর মিষ্টি হাতে গিয়েছিলেন শিশুটির বাড়িতে। ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে লাল রঙের একটি ব্যাগ হাতে ভবনে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক মুসলিম আহমেদ। তিনি ভবনের নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে লিফটের দিকে যান। এক মিনিট পর ১২টা ৩৯ মিনিটে তাকে লিফটে উঠতে দেখা যায়। পরে তিনি আবার নিচে নেমে বেরিয়ে যান। পুরো সময় তার হাতে ছিল সেই ব্যাগ। অন্য একটি ফুটেজে ব্যাগের ভেতরে মিষ্টির প্যাকেট দেখা যায়।

বাসায় মিষ্টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক গিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে শাহজালাল রুমি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুধু মিষ্টি নয়, বাসায় ঢুকতে না পেরে আমার স্ত্রীকে এসএমএসও দিয়েছিলেন ওই শিক্ষক। জানা গেছে, শিশুটির মায়ের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মুলিম আহমেদ শিশুর মায়ের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠান। তাতে লেখা ছিল, ‘আপু, আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে এসেছি।’ তবে দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে যান।

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মুসলিম আহমেদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির পিতা ও স্থানীয় লোকজন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত