ক্ষুদ্র কৃষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহায়তা করছে আইএফএডি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে ডিজিটাল প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান পৌঁছে দিতে কৃষিপ্রযুক্তি (এগ্রিটেক) স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) এবং জার্মানির স্পার্কাসেনস্টিফটং ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (ডিএসআইকে)। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইনোভাটেক বাংলাদেশ ডেমো ডে’। এতে স্টার্টআপ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ায় কর্মসূচিটির প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শেষ হয়।

জাতিসংঘের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আইএফএডি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং স্পার্কাসেনস্টিফটংয়ের বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘ইনোভাটেক’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ডিজিটাল সমাধান তৈরি, মাঠপর্যায়ে সেগুলোর কার্যকারিতা যাচাই এবং উন্নয়নে স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করা।

বাংলাদেশে কৃষিপ্রযুক্তিভিত্তিক দুটি স্টার্টআপ-অ্যাগ্রোনোচেইন ও কৃষি স্বপ্ন-মাঠপর্যায়ে তাদের প্রযুক্তিগত সমাধান পরীক্ষা করেছে। এ কাজে প্রতিষ্ঠান দুটি আইএফএডি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেছে। পাশাপাশি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সঙ্গেও কাজ করেছে তারা।

ডেমো ডে অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ দুটি তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, অর্জিত ফলাফল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া শিক্ষা তুলে ধরে। পরে এক প্যানেল আলোচনায় গ্রামীণ বাংলাদেশের উপযোগী প্রযুক্তিগত সমাধানগুলোকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়া এবং আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাজারসংশ্লিষ্ট পক্ষ ও অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে আইএফএডির কান্ট্রি ডিরেক্টর ভ্যালান্টাইন আচানচো বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় পরিবর্তন আনতে সরকার, উদ্ভাবক ও বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইনোভাটেকের মতো কর্মসূচি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবসম্মত ও বাজারভিত্তিক সমাধান নিয়ে এসে সরকারি বিনিয়োগের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। নতুন ধারণা পরীক্ষা এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানোর মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনকে কার্যকর সমাধানে রূপ দিতে সহায়তা করে। এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে পারেন।

ইনোভাটেকের পরিচালক ক্রিস্টিনা ওলসেন বলেন, গ্রামীণ এলাকায় শুধু প্রযুক্তির জন্য প্রযুক্তি প্রয়োজন নয়। বরং এমন সমাধান দরকার, যা নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করবে, উৎপাদকদের বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকর হবে এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, ইনোভাটেক প্রথমে মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দেয়। এরপর স্টার্টআপ ও উৎপাদকদের একত্র করা হয়, যাতে প্রযুক্তির প্রকৃত ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সমাধানগুলোকে উপযোগী করে তোলা যায়।

প্যানেল আলোচনায় বলা হয়, প্রযুক্তির অভাবই সাধারণত প্রধান বাধা নয়। পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে বৃহত্তর পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রকৃত চাহিদা চিহ্নিত করা, প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করা, কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি প্রকল্পের সহায়তা শেষ হওয়ার পর অর্থায়ন ও মালিকানা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ‘ইনোভাটেক ২.০’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ, বলিভিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস ও পেরুর ৩২ হাজারের বেশি গ্রামীণ পরিবারের কাছে ১৫টি প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপের উদ্ভাবিত ডিজিটাল সমাধান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এসব প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে কৃষক ও গ্রামীণ পরিবারগুলোকে বাজার ও আর্থিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা, ফসল ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপের অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং আরও টেকসই কৃষিপদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করা হয়েছে।

কর্মসূচিটির আওতায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ৮১১টি গ্রামীণ সংগঠনের সংযোগ তৈরি হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৭ হাজার নারী এবং ১১ হাজার ৩০০-এর বেশি তরুণ। অংশগ্রহণকারী উৎপাদক সংগঠনগুলোর প্রতি তিনটির মধ্যে দুটি কৃষিবাস্তুসংস্থানভিত্তিক (অ্যাগ্রোইকোলজিক্যাল) কৃষিপদ্ধতি গ্রহণ করেছে।

ইনোভাটেকের দুটি সংস্করণ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি স্টার্টআপকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত সমাধানের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি গ্রামীণ পরিবারের সদস্যরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত