রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদের ভিপি মো. নাইম ইসলাম। দীর্ঘ এক বছরের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরদিনই হল প্রশাসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে হলের নিজের সিট ছেড়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও যারা হলে অবস্থান করছেন, তাদের হল ছেড়ে নবীন শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভিপি নাইম।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হল ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভিপি নাইম।
জানা যায়, নাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং চলতি বছরের জুন মাসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ফেসবুক পোস্টে নাইম বলেন, “২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মেধার ভিত্তিতে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত অবস্থায় ৫ নভেম্বর, ২০২৪ সালে সৈয়দ আমীর আলী হলে উঠার সৌভাগ্য হয়। হলের শিক্ষার্থী ভাইদের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসায় হলের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলাম। ভিপি হিসেবে দীর্ঘ এক বছরের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হলের আবাসিক ছাত্রজীবন। দায়িত্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হল ছেড়েছি।”
এদিকে, দীর্ঘ ৩৬ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচন। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হল সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদ নির্বাচনে শিবিরের প্যানেল থেকে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন মো. নাইম ইসলাম।
হল ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাইম জানান, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আসনসংখ্যা খুবই সীমিত। তা ছাড়া, বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই হলের বাইরে থাকেন। সেই জায়গা থেকে চিন্তা করে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরদিনই নিজের সিট ছেড়ে দিয়েছি, যেন আমার সিটে অন্য একজন থাকার সুযোগ পান।”
ভিপি নাইম বলেন, “হল সংসদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালনের সুবিধার্থে যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে, তাদের হলে থাকার বিষয়ে একটি রেজুলেশন পাস হয়। যেহেতু আমার দায়িত্ব শেষ হয়েছে, সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী হল সংসদের মেয়াদ শেষের দিনই হল ছেড়ে দিয়েছি।”
ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও যারা হলে অবস্থান করছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই ভিপি বলেন, আমাদের সীমিত আসনের এই হলগুলোতে আমরা যদি ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর অন্য কাউকে সুযোগ না দিই, তাহলে হলের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া সেই রাবি শিক্ষার্থী আর নেই